শনিবার
১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গেজেটের আগেই আইএমএফের নিবিড় পর্যবেক্ষণে নবম পে-স্কেল

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬, ১০:০৪ এএম
ফাইল ছবি
expand
ফাইল ছবি

দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

তবে গেজেট জারির আগেই বিষয়টি নিয়ে নিবিড় পর্যবেক্ষণ শুরু করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। নতুন ঋণ কর্মসূচি অনুমোদনের আগে পে-স্কেলের আর্থিক সক্ষমতা, বাজেট ও রাজস্ব পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে সংস্থাটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১ জুলাই থেকে কার্যকর শুরু হয়েছে নবম পে-স্কেলের। সম্প্রতি এক বৈঠকে এর রূপরেখা, আর্থিক প্রভাব, প্রশাসনিক সংস্কার ও বাস্তবায়নসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে জনপ্রশাসনে কর্মদক্ষতা, জবাবদিহি এবং সেবার মান উন্নয়নের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তবে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলেও শুরুতেই সব সুবিধা একসঙ্গে পাওয়া যাবে না। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম ধাপে সংশোধিত মূল বেতনের একটি অংশ কার্যকর করা হতে পারে। পরে ধাপে ধাপে বাকি অংশ এবং অন্যান্য ভাতা সমন্বয় করা হবে। ফলে জুলাই থেকে কার্যক্রম শুরু হলেও বর্ধিত বেতনের আর্থিক সুবিধা পেতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।

এদিকে নতুন ঋণ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশকে ৪৫০ থেকে ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনায় বসছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

তবে এই ঋণ অনুমোদনের আগে কিছু শর্ত ও তথ্য চাইছে সংস্থাটি। তারা চলতি অর্থবছরের বাজেট, রাজস্ব আহরণের সক্ষমতা, মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো এবং অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক অর্থায়ন পরিকল্পনা দেখতে চায়। একই সঙ্গে নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা কতটুকু, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে আইএমএফ।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১২ থেকে ১৬ জুলাই আইএমএফের বাংলাদেশ মিশন প্রধান ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করবে। সফরের প্রথম দিন অর্থ বিভাগের সঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হবে।

প্রথম বৈঠকে বাজেট, রাজস্বনীতি, মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো এবং অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক অর্থায়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে। দ্বিতীয় বৈঠকে গুরুত্ব পাবে নবম জাতীয় পে-স্কেল, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং এ খাতে সরকারের ব্যয় পরিকল্পনা।

অর্থ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আইএমএফের কাছে সরকারের মধ্যমেয়াদি বাজেট পরিকল্পনা, রাজস্ব বৃদ্ধির কৌশল ও বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনা তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং নতুন পে-স্কেলের অর্থায়নের পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনাও দেওয়া হবে। সরকারের প্রত্যাশা, এসব আলোচনার ভিত্তিতে নতুন ঋণ কর্মসূচির বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে।

তবে আইএমএফ জানতে চাইছে, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত এই ব্যয় কীভাবে সামাল দেওয়া হবে। বর্তমানে দেশে রাজস্ব আদায়ের ধারা ধীর, মূল্যস্ফীতি উচ্চ এবং ব্যাংকিং খাতে দুর্বলতা রয়েছে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও কমে গেছে।

সংস্থাটির মতে, নতুন ঋণ অনুমোদনের জন্য সরকারের শক্তিশালী নীতিগত অঙ্গীকার থাকতে হবে। সেই সঙ্গে বাস্তবসম্মত সংস্কার পরিকল্পনা এবং ঋণ পরিশোধের সক্ষমতার গ্রহণযোগ্য ভিত্তি থাকা প্রয়োজন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
Norway VS England
Scheduled
12 Jul, 03:00 AM
VS
World Cup