মঙ্গলবার
০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাপানি স্থপতি তাদাও আন্দোর নকশায় তৈরি হচ্ছে আধুনিক শিশু গ্রন্থাগার

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী জনাব নিতাই রায় চৌধুরী-এর সাথে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ১১টায় তাঁর সচিবালয়স্থ অফিস কক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত জানব সাইদা শিনিচি (Mr. SAIDA Shinichi) এক সৌজন্য সাক্ষাৎকারে মিলিত হন। বৈঠকে দু'দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, দ্বিপাক্ষিক সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সাক্ষাৎকারের শুরুতে সংস্কৃতি মন্ত্রী জাপানের নতুন রাষ্ট্রদূতকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং বাংলাদেশে তাঁর সফল কর্মকাল কামনা করেন। মন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার পর থেকেই জাপান আমাদের এক বিশ্বস্ত, পরীক্ষিত এবং অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী বন্ধু। বিগত পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে দু'দেশের এই অমূল্য পারস্পরিক বিশ্বাস ও সৌহার্দ্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন যাত্রায় জাপানের অবিচল ও দৃঢ় সমর্থনের জন্য তিনি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে দু'দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদারকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। ১৯৮২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক চুক্তি এবং ২০০৫ সালের ১৪ জুলাই টোকিওতে স্বাক্ষরিত 'সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি' (CEP)-এর কথা স্মরণ করে মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, দু'দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন বৃদ্ধির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান সরকারের কার্যপরিধি ও কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে ২০০৫ সালের সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচিটি যুগোপযোগী ও নবায়ন করার জন্য কূটনৈতিক চ্যানেলে যৌথভাবে কাজ করার প্রস্তাব দেন তিনি।

বৈঠকের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর প্রাঙ্গণে বিশ্বখ্যাত জাপানি স্থপতি তাদাও আন্দোর (Tadao Ando) অনন্য স্থাপত্যশৈলীতে একটি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন শিশু গ্রন্থাগার (Bangladesh Children's Library) নির্মাণের অগ্রগতি। ২০২৩ সালের ২৭ এপ্রিল স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (MoU) বিষয়টি স্মরণ করে মন্ত্রী এই মহতী উদ্যোগের জন্য স্থপতি তাদাও আন্দো এবং জাপান সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। এই বিশেষ গ্রন্থাগারটি বাংলাদেশ ও জাপানের গভীর বন্ধুত্বের এক চিরস্থায়ী প্রতীক হিসেবে আমাদের শিশুদের মেধা, মনন ও সৃজনশীলতা বিকাশে অভূতপূর্ব ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি এর দ্রুত সমাপ্তিতে দূতাবাসের সহযোগিতা কামনা করেন।

জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্প এবং চারুকলার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশ আয়োজিত আন্তর্জাতিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনীতে (Asian Art Biennale) জাপানের নিয়মিত ও গৌরবোজ্জ্বল অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। সেই সাথে সাংস্কৃতিক সম্পদ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ, জাদুঘরের আধুনিকায়ন, প্রত্নতাত্ত্বিক খনন ও বৈজ্ঞানিক সংরক্ষণ, সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি দল ও শিল্পী বিনিময় এবং গ্রন্থাগার ও আর্কাইভস খাতের প্রযুক্তিগত উন্নয়নে জাপানের সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে মন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন।

সৌজন্য সাক্ষাৎকালে সংস্কৃতি বিষয়ক ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, এবং ঢাকাস্থ জাপানি দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে মতবিনিময় শেষে উভয় পক্ষ একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্বের স্মারক হিসেবে শুভেচ্ছা উপহার ও ক্রেস্ট প্রদান করেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
Argentina VS Egypt
Scheduled
07 Jul, 10:00 PM
VS
World Cup