সোমবার
১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেন প্রতিদিন মর্নিং ওয়াক করা জরুরি, জানুন উপকার

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:০০ এএম আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৪ এএম
ফাইল ছবি
expand
ফাইল ছবি

ভোরের নির্মল বাতাসে নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস শুধু মনকে সতেজ করে না, শরীরের ভেতরেও তৈরি করে নানা ইতিবাচক পরিবর্তন। বিশেষ করে সকালের হাঁটা বা ‘মর্নিং ওয়াক’ হৃদযন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখতে এবং রক্তে চর্বির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত হাঁটা ‘ভালো কোলেস্টেরল’ বা এইচডিএল বাড়াতে এবং ক্ষতিকর কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে সহায়তা করে।

শরীর সুস্থ রাখতে প্রতিদিনের রুটিনে হাঁটার অভ্যাস যুক্ত করা একটি সহজ ও কার্যকর উপায়। এর জন্য জটিল কোনো ব্যায়াম বা বিশেষ সরঞ্জামের প্রয়োজন নেই। নিয়মিত কিছুটা সময় হাঁটলেই হৃদস্বাস্থ্যসহ শরীরের নানা ক্ষেত্রে উপকার পাওয়া সম্ভব।

হাঁটা কীভাবে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে?

কোলেস্টেরল শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় হলেও এর মাত্রা বেড়ে গেলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। নিয়মিত হাঁটার ফলে শরীরের বিপাকীয় কার্যক্রম সক্রিয় হয় এবং অতিরিক্ত চর্বি ব্যবহারে সহায়তা করে।

হাঁটার সময় শরীরে এমন কিছু এনজাইম সক্রিয় হয়, যা ক্ষতিকর চর্বি ভাঙতে ভূমিকা রাখে। এর ফলে রক্তে এলডিএল বা ‘খারাপ কোলেস্টেরল’ এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমতে পারে। একই সঙ্গে এইচডিএল বা ‘ভালো কোলেস্টেরল’-এর পরিমাণ বাড়তে সহায়তা করে।

কতক্ষণ হাঁটা দরকার?

বিশেষজ্ঞরা হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি গতির অ্যারোবিক ব্যায়ামের পরামর্শ দেন। অর্থাৎ সপ্তাহে পাঁচ দিন ৩০ মিনিট করে হাঁটার অভ্যাস করা যেতে পারে।

তবে শুরুতেই দীর্ঘ সময় হাঁটা সম্ভব না হলে অল্প সময় দিয়েও শুরু করা যায়। দিনে দুইবার ১০ মিনিট করে হাঁটাও শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। ধীরে ধীরে হাঁটার সময় ও গতি বাড়ানোই সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি।

কার্ডিওলজিস্ট ও অধ্যাপক ড. রজার ব্লুমেন্থালের মতে, যে কোনো শারীরিক কার্যক্রম যা হৃদস্পন্দন বাড়ায়, তা কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। হাঁটা এমন একটি সহজ ব্যায়াম, যা প্রায় সব বয়সী মানুষ দৈনন্দিন জীবনের অংশ করতে পারেন।

নিষ্ক্রিয় জীবনযাপন বদলাতে হাঁটা শুরু করুন

যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন না, তারাও প্রতিদিনের চলাফেরা কিছুটা বাড়িয়ে উপকার পেতে পারেন। প্রতিদিন মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিট হাঁটার অভ্যাস দিয়েও শুরু করা সম্ভব।

গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। তবে একদিন বা অল্প কয়েকদিন ব্যায়াম করলেই বড় পরিবর্তন আসে না; ধারাবাহিকতাই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত কয়েক মাস হাঁটার অভ্যাস বজায় রাখলে রক্তচাপ, রক্তে শর্করা এবং কোলেস্টেরলের মাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

হাঁটার গতি বাড়ালে মিলবে বাড়তি সুবিধা

হৃদযন্ত্রের উপকার পেতে দৌড়ানো শুরু করার প্রয়োজন নেই। স্বাভাবিক হাঁটার সঙ্গে ধীরে ধীরে কিছুটা দ্রুত হাঁটা যোগ করলেই বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়।

প্রথমে আরামদায়ক গতিতে হাঁটার অভ্যাস তৈরি করুন। পরে সপ্তাহের কয়েক দিন কিছু সময়ের জন্য দ্রুত হাঁটার চেষ্টা করতে পারেন। এতে শরীরের সহনশক্তি বাড়বে এবং হৃদযন্ত্র আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করবে।

হাঁটার পাশাপাশি খাবারের দিকেও নজর দিন

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে শুধু হাঁটা নয়, খাদ্যাভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। কম লবণযুক্ত খাবার, সুষম খাদ্য গ্রহণ, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং পর্যাপ্ত ঘুম—সবকিছু মিলিয়েই ভালো স্বাস্থ্য নিশ্চিত হয়।

যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা রয়েছে, তাদের নতুন ব্যায়ামের অভ্যাস শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সকালের হাঁটা হতে পারে সুস্থ জীবনের একটি ছোট কিন্তু কার্যকর শুরু। প্রতিদিনের ব্যস্ততার মধ্যেও কিছুটা সময় বের করে হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুললে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি শরীর ও মন দুটিই ভালো রাখা সম্ভব।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
France VS Spain
Scheduled
15 Jul, 01:00 AM
VS
World Cup