

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কৃষকের জন্য বরাদ্দ সরকারি সার অন্য জেলায় পাচারের অভিযোগে করা মামলায় মেহেরপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা সার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সোহরাব হোসেনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
দীর্ঘদিন আদালতে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে তা নামঞ্জুর করা হয়। বর্তমানে তিনি গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে রয়েছেন।
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থানায় দায়ের করা সরকারি সার পাচার মামলায় সোহরাব হোসেনসহ পাঁচজনকে আসামি করে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৪ অক্টোবর রাতে ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কের মুকসুদপুর উপজেলার বড়ইতলা এলাকায় একটি ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে ৪৬০ বস্তা ডিএপি সার উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধার করা সারের বস্তাগুলো বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সরবরাহ করা এবং এগুলোর গায়ে সরকারি চিহ্ন ছিল বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের অভিযোগ, কৃষকদের জন্য বরাদ্দ এসব সার অবৈধভাবে অন্য জেলায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। উদ্ধার করা সারের আনুমানিক বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৪ লাখ ৩৭ হাজার টাকা।
এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মুকসুদপুর থানায় মামলা করা হয়। তদন্ত শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. রকিবুল ইসলাম উজ্জ্বল ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে সোহরাব হোসেন ছাড়াও মেহেরপুর ও বরিশালের আরও চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
আদালত সূত্র জানায়, মামলার কয়েকটি ধার্য তারিখে উপস্থিত না হওয়ায় সোহরাব হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে গত ১ জুলাই তিনি আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত তা প্রত্যাখ্যান করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উদ্ধার করা সার পরিবহনের সঙ্গে আসামিদের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। আদালতের নির্দেশে জব্দ করা সারের মধ্যে ৪৫৯ বস্তা নিলামে বিক্রি করে পাওয়া ৪ লাখ ১৪ হাজার ৮০০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সরকারি সার পাচারের মামলায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতার নাম আসায় মেহেরপুরে আলোচনা শুরু হয়েছে। মেহেরপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন বলেন, রাজনীতি করার পাশাপাশি আমি নিজেও একজন কৃষক। এবার ছয় বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি। কিন্তু বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকেও আমাকে চড়া মূল্যে কালোবাজারিদের কাছ থেকে সার কিনতে হয়েছে। অথচ সদর উপজেলা বিএনপির নেতা এবং সার ব্যবসায়ীদের নেতা হয়েও সোহরাব হোসেন মেহেরপুর জেলার কোটার সার অন্য জেলায় কালোবাজারিতে বিক্রি করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন। বিষয়টি সত্যিই লজ্জার।
সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফয়েজ আহমেদ বলেন, মামলাটি বর্তমান উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠনের আগের। তাই এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে আদালতে তিনি দোষী সাব্যস্ত হলে দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কৃষকদের একাংশ অভিযোগ করেছেন, মৌসুমে যখন অনেক সময় নির্ধারিত দামে সার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, তখন সরকারি সার পাচারের ঘটনা কৃষকদের জন্য উদ্বেগের।
মেহেরপুরের কয়েকজন কৃষক জানান, সারের সংকটের সময় অনেককে বাড়তি দামে সার কিনতে হয়। কৃষকের জন্য বরাদ্দ পণ্য অবৈধভাবে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
মুকসুদপুর থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, মামলাটি বর্তমানে বিচারিক পর্যায়ে রয়েছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম চলমান।