

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দুর্নীতি, বেকারত্ব ও রাজনৈতিক অস্থিরতার বিরুদ্ধে যে তরুণদের আন্দোলন নেপালের ক্ষমতার সমীকরণ বদলে দিয়েছিল, এবার সেই তরুণ প্রজন্মেরই প্রতিবাদের মুখে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ।
সরকার পরিবর্তনের পর নেপালের মানুষের প্রত্যাশা ছিল—নতুন নেতৃত্বের অধীনে দুর্নীতি কমবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং দেশের অর্থনীতি নতুন গতি পাবে। কিন্তু ক্ষমতায় আসার এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই শাহ সরকারের বিরুদ্ধে আবারও রাজপথে নেমেছে দেশটির জেন-জি প্রজন্ম।
প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে কাঠমান্ডুতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে গত তিন দিনে তিন যুবক আত্মাহুতির চেষ্টা করেছেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে দুজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন, আরেকজন গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে রয়েছেন।
বালেন্দ্র শাহ নিজেই গত বছরের জেন-জি আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ ছিলেন। তরুণদের প্রত্যাশার প্রতীক হিসেবে উঠে আসা এই নেতা এখন তাদেরই একাংশের সমালোচনার কেন্দ্রে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ক্ষমতায় আসার পরও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নে প্রত্যাশিত পরিবর্তন আনতে পারেননি তিনি।
জেন-জি নেপাল নামের সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, শাহ সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে এবং তাদের নীতিগুলো তরুণদের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
কয়েক দিন ধরে রাজধানী কাঠমান্ডুর বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ চলছে। পরিস্থিতি ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সরকারও। বিরোধী দল নেপালি কংগ্রেসও আন্দোলনকারীদের পাশে অবস্থান নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেছে। দলটির দাবি, রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা ও হতাশার কারণেই এমন চরম পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
নেপালে প্রতিবাদের অংশ হিসেবে আত্মাহুতির ঘটনা নতুন নয়। ২০২৩ সালে প্রেম আচার্য নামের এক যুবকের আত্মহত্যার পর তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন বালেন্দ্র শাহ, যিনি তখন কাঠমান্ডুর মেয়র ছিলেন। এবার একই ধরনের সংকটের কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি নিজেই।
গত বছর জেন-জি আন্দোলনের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা, দুর্নীতি, বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়। সেই আন্দোলন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির সরকারকে চাপে ফেলে। পরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ওলিকে পরাজিত করে ক্ষমতায় আসেন মাত্র ৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহ।
