

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাজধানীর ভাটারার নূরের চালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংস্কারকাজের জন্য ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলামের মাধ্যমে দুই লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়। এর মধ্যে ‘অফিস খরচ’ বাবদ এক লাখ টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম আহ্বায়ক ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে।
আরও অভিযোগ উঠেছে, ওমর ফারুক এই টাকা আদায়ে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষককে চাপ ও হুমকি দিয়েছেন। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত এই এনসিপি নেতা।
জানা গেছে, গত ২৮ জুন ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক কর্তৃক নূরের চালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংস্কারকাজের জন্য দুই লাখ টাকার চেক অনুমোদন দেওয়া হয়। এই চেক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষকের কাছে হস্তান্তর করেন ওমর ফারুক। চেক হস্তান্তরের পরই ওই অর্থের মধ্যে থেকে ‘অফিস খরচ’ বাবদ এক লাখ টাকা দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে নূরের চালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসরীন সুলতানা ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দেন। রোববার (১২ জুলাই) দেওয়া ওই অভিযোগপত্রে তিনি মহানগর এনসিপি নেতা ওমর ফারুকের টাকা দাবির বিষয়টি উল্লেখ করেন।
অভিযোগপত্রে প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘গত ২৮ জুন আপনার পক্ষ থেকে স্কুলের সংস্কারকাজের জন্য ওমর ফারুকের নিকট থেকে দুই লাখ টাকার চেক গ্রহণ করি। গত ৬ জুলাই ফারুক সাহেব অফিস খরচের কথা বলে এই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. শাহীন সাহেবের কাছ থেকে তার প্রতিনিধি মো. সাইফের (এনসিপি, যুবশক্তি) মাধ্যমে এক লাখ টাকার চেক নিয়ে যায়। চেক দিতে দেরি হওয়ায় ফোনে সে আমার সাথে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।’
অভিযোগপত্রে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলামের কাছে অনুরোধ করেন প্রধান শিক্ষক নাসরীন সুলতানা।
অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম আহ্বায়ক ওমর ফারুক এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘এটা কোনো এমপি মহোদয়ের অনুদান না। এটি একটি ব্যক্তিগত ইস্যু নিয়ে আনা হয়েছে। ডিসি মহোদয়ের দিক থেকেই এসেছে। বিষয়টি দেখা হলে সামনাসামনি এক সময় বলব।’
বিদ্যালয়ের বরাদ্দ থেকে এক লাখ টাকা নেওয়া এবং টাকার জন্য চাপ ও হুমকির অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আসলে এ রকম না। এ রকম কিছু হয়নি।’
প্রধান শিক্ষকের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ৬ জুলাই চেকের মাধ্যমে এক লাখ টাকা গ্রহণকারী ওমর ফারুকের মনোনীত ব্যক্তি হাসিবুল হাসান সাঈফ হলেন বাড্ডা থানা যুবশক্তির আহ্বায়ক।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে হাসিবুল হাসান সাঈফের মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি। পরে এই নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপে অভিযোগ বিষয়ে লিখিত বার্তা পাঠালেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তিনি কোনো উত্তর দেননি।
হাসিবুলকে টাকা নেওয়ার জন্য পাঠানোর অভিযোগ অস্বীকার করে ওমর ফারুক বলেন, ‘এ রকম কিছু হয়নি। এমন কিছু আমরাও শুনেছিলাম। পরে আমরাও গিয়ে কথা বলেছি। শুধু লোকমুখে ছড়িয়েছে। যেটা হয়েছিল, সেটা ঠিক হয়ে গেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ওনারা শিক্ষক মানুষ। আমরা কেন এটা করতে যাব?’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নূরেরচালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসরিন সুলতানা বলেন, ‘টাকার বিষয়টা সমাধান হয়ে গেছে। ঘটনার বিস্তারিত জানতে হলে আপনি স্কুলে আসেন। সামনাসামনি কথা বলব।’
সূত্র: এশিয়া পোস্ট
