বুধবার
০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোন বয়সে কোন স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি, জানুন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

শরীরে কোনো বড় রোগ হঠাৎ করে দেখা দেয় না। অনেক ক্ষেত্রেই রোগের ঝুঁকি বা প্রাথমিক সংকেত আগে থেকেই শরীরে তৈরি হতে থাকে। কিন্তু ব্যস্ত জীবনযাত্রায় অনেকেই এসব লক্ষণ উপেক্ষা করেন। ফলে ছোট সমস্যা পরে জটিল আকার নিতে পারে। এ কারণেই নির্দিষ্ট বয়সের পর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা প্রিভেন্টিভ স্ক্রিনিংয়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে বিভিন্ন পরিবর্তন আসে। তাই রোগ হওয়ার পর চিকিৎসার চেয়ে আগে থেকেই ঝুঁকি শনাক্ত করা বেশি কার্যকর। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের মধ্যে কম বয়সেই ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, হরমোনজনিত সমস্যা ও কিছু ক্যানসারের ঝুঁকি দেখা দিতে পারে।

৩০ বছর পার হলে যেসব পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ:

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, ৩০ বছর বয়সের পর নিয়মিত কিছু সাধারণ পরীক্ষা শুরু করা উচিত। এর মধ্যে রয়েছে ফাস্টিং ব্লাড সুগার ও এইচবিএ১সি পরীক্ষা। এসব পরীক্ষার মাধ্যমে ডায়াবেটিস বা প্রি-ডায়াবেটিসের ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

এ ছাড়া লিপিড প্রোফাইল বা কোলেস্টেরল পরীক্ষা হৃদরোগের ঝুঁকি বুঝতে সহায়তা করে। পাশাপাশি রক্তচাপ নিয়মিত মাপার অভ্যাস করা জরুরি।

নারীদের ক্ষেত্রে ২১ বছর বয়সের পর থেকেই নিয়মিত প্যাপ স্মিয়ার পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট সময় পরপর এই পরীক্ষা করালে জরায়ুমুখের ক্যানসারের মতো রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা সম্ভব।

৪০ বছর পার হলে বাড়তি নজর প্রয়োজন:

৪০ বছর বয়সের পর শরীরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা নিয়মিত করার প্রয়োজন হয়। কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (সিবিসি) রক্তের বিভিন্ন সমস্যা শনাক্ত করতে সাহায্য করে। কিছু ক্ষেত্রে রক্তের ক্যানসারের মতো জটিল রোগের ইঙ্গিতও পাওয়া যেতে পারে।

এই বয়সে থাইরয়েড প্যানেল পরীক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ও থাইরয়েডের সমস্যা এ সময় বেশি দেখা দিতে পারে।

চোখের জন্য গ্লুকোমা স্ক্রিনিং করানোও উপকারী। এতে চোখের চাপ বা দৃষ্টিশক্তির সম্ভাব্য সমস্যা আগেই শনাক্ত করা যায়।

নারীদের ক্ষেত্রে ৪০ বছর বয়সের পর ম্যামোগ্রাম পরীক্ষার গুরুত্ব বাড়ে। স্তন ক্যানসার শনাক্তে এই বিশেষ ধরনের এক্স-রে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

৬০ বছর পার হলে যেসব পরীক্ষায় গুরুত্ব দিতে হবে:

বয়স ৬০ পেরোলে ত্বকের ক্যানসার শনাক্তে স্কিন ক্যানসার স্ক্রিনিং করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এ বয়সে প্রস্টেটের সমস্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে, তাই পুরুষদের ক্ষেত্রে পিএসএ (প্রস্টেট স্পেসিফিক অ্যান্টিজেন) পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

বয়স্কদের মধ্যে হজমসংক্রান্ত সমস্যা বা ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোমের মতো সমস্যাও দেখা যায়। প্রয়োজন অনুযায়ী কোলোনোস্কোপির মাধ্যমে অন্ত্রে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন আছে কি না, তা পরীক্ষা করা হয়।

যাদের হৃদরোগের ঝুঁকি রয়েছে, তাদের নিয়মিত হৃদযন্ত্রের পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ইসিজি, ইকোকার্ডিওগ্রাম, করোনারি ক্যালসিয়াম স্কোরিং বা অন্যান্য পরীক্ষা করা যেতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, বয়স অনুযায়ী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা মানেই রোগের ভয় নয়; বরং সময়মতো ঝুঁকি শনাক্ত করে সুস্থ জীবন নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
France VS Morocco
Scheduled
10 Jul, 02:00 AM
VS
World Cup