

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বর্ষাকালে টানা বৃষ্টিতে ভেজার কারণে যেমন সাধারণ ঠান্ডা-জ্বর হয়, তেমনি এই সময়ে টাইফয়েডের ঝুঁকিও অনেক বেড়ে যায়। অনেকেই টাইফয়েডকে সাধারণ জ্বর ভেবে ভুল করেন, তবে এর ধরণ বেশ আলাদা।
মূলত সালমোনেলা টাইফি (Salmonella Typhi) নামের একটি ব্যাকটেরিয়ার কারণে টাইফয়েড হয়। এই জ্বর হলে তাপমাত্রা একলাফে ১০৩-১০৪ ডিগ্রিতে উঠে যেতে পারে। সাথে থাকে মারাত্মক মাথাব্যথা, শরীরে বা গিঁটে গিঁটে যন্ত্রণা, পেটের খারাপ এবং গায়ে লালচে র্যাশ বা ফুসকুড়ি।
বর্ষায় কেন বাড়ে টাইফয়েডের ঝুঁকি?
টাইফয়েড মূলত দুষিত পানি ও পচা-বাসি বা অপরিচ্ছন্ন খাবারের মাধ্যমে ছড়ায়। আমাদের কিছু অসাবধানতাই এর ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়:
দূষিত পানি পান: রাস্তার ধারের শরবত, খোলা ফুটপাতের ফুচকা কিংবা সঠিক প্রক্রিয়ায় শোধন না করা পানি পান করলে খুব সহজেই এই ব্যাকটেরিয়া পেটে চলে যায়।
খাবারে অসচেতনতা: পরিষ্কার পানিতে শাকসবজি না ধোয়া, রান্নার পর খাবার অনেকক্ষণ খোলা ফেলে রাখা কিংবা রান্নায় অনিরাপদ পানি ব্যবহার করলেও টাইফয়েড হতে পারে।
হাত ধোওয়ার অলসতা: খাবার খাওয়ার আগে শুধু পানি দিয়ে হাত ধুয়ে নেওয়া মোটেও যথেষ্ট নয়। হাতে জীবাণু থেকে গেলে তা খাবারের সাথে পেটে চলে যায়।
ফলমূল ও কাঁচা সালাদ: ঠিকমতো না ধুয়ে কাঁচা সালাদ বা ফলমূল খেলে সেখান থেকেও ছড়াতে পারে ব্যাকটেরিয়া।
রান্নাঘরের নোংরা পরিবেশ: রান্নার পাত্র ঠিকমতো সাবান দিয়ে না ধোয়া কিংবা অপরিষ্কার হাতে রান্নাবান্না করার অভ্যাসেও এই অসুখ বাসা বাঁধে।
টাইফয়েডের সাধারণ লক্ষণসমূহ:
টানা জ্বর: শরীরের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বেড়ে ১০৩° থেকে ১০৪° ফারেনহাইট পর্যন্ত হতে পারে। সাধারণত বিকেল বা রাতে জ্বর বেশি বাড়ে।
মাথা ও শরীর ব্যথা: প্রচন্ড মাথাব্যথা, মাথা ভারী লাগা এবং গায়ে ব্যথা বা ক্লান্তিভাব থাকে।
পেটের সমস্যা: পেটব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য অথবা কোনো কোনো রোগীর ক্ষেত্রে ডায়রিয়া হতে দেখা যায়।
ক্ষুধামান্দ্য: খাওয়ার প্রতি অনীহা ও বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে।
অন্যান্য উপসর্গ: গায়ে হালকা গোলাপি রঙের ছোট দাগ বা ফুসকুড়ি (Rose spots) এবং শুষ্ক কাশি হতে পারে।
টাইফয়েড থেকে নিরাপদে থাকতে কী করবেন?
১. নিরাপদ পানি ব্যবহার করুন: বাসা বা বাইরে- সবসময় ফোটানো বা ফিল্টার করা পানি পান করুন। বাইরে বের হওয়ার সময় বাসা থেকেই পানির বোতল সাথে রাখুন এবং বোতল নিয়মিত সাবান দিয়ে পরিষ্কার করুন।
২. বাইরের খাবার এড়িয়ে চলুন: রাস্তার ধারের খোলা খাবার, ফুচকা, চাট কিংবা শরবত বর্ষার দিনে একদম ছোঁয়া যাবে না।
৩. ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিন: খাওয়ার আগে ও বাথরুম ব্যবহারের পর সাবান-পানি দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড হাত পরিষ্কার করুন।
৪. রান্নাঘর ও শাকসবজি পরিষ্কার রাখুন: রান্নার আগে সবজি ও ফলমূল নিরাপদ পানিতে খুব ভালো করে ধুয়ে নিন। রান্নাঘর যেন সবসময় শুকনো ও পরিষ্কার থাকে।
জরুরি পরামর্শ:
টানা ২-৩ দিন জ্বর না কমলে, সাথে পেটের সমস্যা বা গায়ে র্যাশ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। রক্ত বা মল-মূত্র পরীক্ষার মাধ্যমে এটি নিশ্চিত হওয়া যায়। এছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে টাইফয়েডের প্রতিষেধক টিকাও (Vaccine) নেওয়া যেতে পারে।
