

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বেশিরভাগ মানুষই ডায়াবেটিসকে শুধু রক্তে শর্করার (গ্লুকোজ) ওঠা-নামা নিয়ন্ত্রণের রোগ মনে করেন। কিন্তু এর প্রভাব কেবল এখানে সীমাবদ্ধ নয়।
দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস নীরবে মস্তিষ্কে রক্ত ও স্নায়ু সরবরাহকারী রক্তনালিগুলোর বড় ধরনের ক্ষতি করে থাকে। এমনকি কোনো স্পষ্ট উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগেই এটি মস্তিষ্কের মারাত্মক ক্ষতি করে ফেলতে পারে।
১. কেন ডায়াবেটিস স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়?
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি সুস্থ মানুষের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। অতিরিক্ত গ্লুকোজ রক্তনালির ভেতরের দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত ও শক্ত করে ফেলে, ফলে রক্তনালি সংকুচিত হয়ে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি তৈরি হয়। মস্তিষ্কে রক্ত ও অক্সিজেনের সরবরাহ ৫ মিনিটের বেশি বন্ধ থাকলে কোষগুলো মারা যেতে শুরু করে।
তাছাড়া, ডায়াবেটিসের সঙ্গে প্রায়ই উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল ও স্থূলতা বা হৃদ্রোগ যুক্ত থাকে। একাধিক সমস্যা একসঙ্গে থাকলে স্ট্রোক ও পুনরায় স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
২. স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তিতে নেতিবাচক প্রভাব
শুধু স্ট্রোক নয়, দীর্ঘদিন রক্তে উচ্চ শর্করা থাকলে তা মস্তিষ্কের সূক্ষ্ম রক্তনালিগুলোর ক্ষতি করে। এর ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ, শেখার ক্ষমতা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা কমতে থাকে।
গবেষণা বলছে, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে দীর্ঘমেয়াদে 'ভাসকুলার ডিমেনশিয়া' ও 'আলঝেইমার'-এর মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে।
৩. রক্তে অতিরিক্ত কম শর্করাও বিপদজনক
শুধু উচ্চ শর্করা নয়, রক্তে শর্করা মাত্রাতিরিক্ত কমে যাওয়া (হাইপোগ্লাইসেমিয়া) মস্তিষ্কের জন্য সমান ক্ষতিকর। হঠাৎ শর্করা কমে গেলে মাথা ঘোরা, বিভ্রান্তি, খিঁচুনি বা চেতনা হারানোর মতো ঘটনা ঘটতে পারে।
সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না পেলে, বিশেষ করে বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের স্থায়ী বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষতি হতে পারে। তাই শর্করা অতিরিক্ত না কমিয়ে তা একটি 'নিরাপদ মাত্রায়' রাখা জরুরি।
৪. মস্তিষ্ক সুরক্ষিত রাখার উপায়
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি স্ট্রোক থেকে বাঁচতে কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন:
৫. স্ট্রোকের সতর্কসংকেত ও ‘গোল্ডেন আওয়ার’
হঠাৎ শরীরের একপাশ অবশ বা দুর্বল হয়ে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া, দৃষ্টিশক্তিতে সমস্যা, শরীরের ভারসাম্য হারানো বা প্রচণ্ড মাথাব্যথা হওয়া- এগুলো স্ট্রোকের প্রধান লক্ষণ।
এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে ঘরে বসে না থেকে অবিলম্বে হাসপাতালে যাওয়া উচিত। উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর আদর্শভাবে ৬ ঘণ্টার মধ্যে (যাকে ‘গোল্ডেন আওয়ার’ বলা হয়) চিকিৎসা শুরু করা গেলে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ ফিরিয়ে এনে দীর্ঘমেয়াদি পক্ষাঘাত (প্যারালাইসিস) বা অন্যান্য জটিলতা কমানো সম্ভব।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ মানে শুধু আজকের ব্লাড সুগার রিপোর্ট ভালো রাখা নয়; বরং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত নিজের মস্তিষ্ক, রক্তনালি ও জীবনের সার্বিক মান সুরক্ষিত রাখা।
