

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


অনেকেই পিরিয়ড মিস করলে আজকাল ঘরে বসেই বাজার থেকে কেনা প্রেগন্যান্সি কিট দিয়ে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করান। কিন্তু অনেকেই বুঝতে পারেন না এটি ব্যবহারের নিয়ম কি? কীভাবে ইউরিন দিয়ে টেস্টের পর কোন দাগ কি বোঝাচ্ছে তা বুঝতে পারেন না। আসুন জেনে নেই প্রেগন্যান্সি কিট দিয়ে কি করে কীভাবে নিশ্চিত হবেন আপনি গর্ভবতী নাকি না।
প্রেগন্যান্সি টেস্ট হলো এমন একটি পরীক্ষা, যার মাধ্যমে শরীরে হিউম্যান কোরিওনিক গোনাডোট্রপিন (hCG) হরমোনের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। গর্ভধারণের পর এই হরমোন তৈরি হতে শুরু করে। বাজারে পাওয়া বেশিরভাগ হোম প্রেগন্যান্সি কিট ইউরিনের মাধ্যমে এই হরমোন শনাক্ত করে ফলাফল জানায়।
প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার সঠিক সময় পিরিয়ড মিস হওয়ার ১ সপ্তাহ পর। এই সময় টেস্ট করলে সবচেয়ে সঠিক ফলাফল পাওয়া যায়।
যেকোনো সময় টেস্ট করা যায়, তবে সকালের প্রথম ইউরিনে এইচসিজি (hCG) হরমোনের ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই তখন টেস্ট করলে সঠিক ফলাফল পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
একটি পরিষ্কার ও শুকনো পাত্রে সকালের ইউরিনের নমুনা সংগ্রহ করুন। কিটের প্যাকেটের সাথে দেওয়া ড্রপারটি দিয়ে ২ থেকে ৩ ফোঁটা টেস্ট স্ট্রিপের নির্দিষ্ট বক্সে (সাধারণত 'S' চিহ্নিত স্থানে) দিন।
যদি আপনার কাছে ডিপ-স্ট্রিপ কিট থাকে, তবে তা পাত্রে নির্দিষ্ট 'MAX' লাইন পর্যন্ত ৫ থেকে ১০ সেকেন্ড ডুবিয়ে রাখুন।
কিটের নির্দেশিকা অনুযায়ী ৩ থেকে ৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। ১০ মিনিটের বেশি সময় পার হলে ফলাফল পরিবর্তন হতে পারে, তাই এই সময়ের মধ্যেই ফলাফল দেখে নিতে হবে।
ছবি সংগৃহীত
যদি কন্ট্রোল লাইন অর্থাৎ 'C' চিহ্নিত স্থানে একটি গাঢ় রঙের দাগ ভেসে ওঠে তাহলে ফলাফল নেগেটিভ। অর্থাৎ গর্ভধারণ করেননি।
যদি 'C' এবং টেস্ট লাইন অর্থাৎ 'T' চিহ্নিত স্থান উভয় ঘরেই দুটি দাগ দেখা যায় তাহলে ফলাফল পজিটিভ। অর্থাৎ গর্ভধারণ করেছেন।
অনেক সময় দাগ দুটো হালকা রঙের দাগ দেখা যায়। সেটি নিয়ে বিভ্রান্ত হবার কিছুই নেই। সেটি পজিটিভ নির্দেশ করতে পারে।
অনেক সময় দেখা যায় কোন দাগই ওঠে না। তাহলে অবশ্যই টেস্টটি ভুল হয়েছে। নতুন একটি কিট দিয়ে আবার পরীক্ষা করতে হবে।
ছবি সংগৃহীত
প্রত্যেক কিটের নিজস্ব কিছু নির্দেশিকা থাকে। তাই ব্যবহারের আগে অবশ্যই প্যাকেটের গায়ের নির্দেশিকা পড়ে নিতে হবে। ফলাফল পসিটিভ নেগেটিভ যাই আসুক এটি কেবল সাময়িক নিশ্চিতকরণ মাত্র। তাই দ্রুত একজন গাইনি বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করে পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া উচিৎ।
ঘরে বসে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার প্রক্রিয়াটি সহজ হলেও, শতভাগ সঠিক ফলাফল পেতে এবং যেকোনো ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে কিছু বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
মেয়াদোত্তীর্ণ কিট ব্যবহার না করা: বাজার থেকে স্ট্রিপ কেনার সময় অবশ্যই এর এক্সপায়ারি ডেট বা মেয়াদ দেখে নিন। মেয়াদ পার হয়ে যাওয়া কিট ভুল ফলাফল দিতে পারে।
টেস্টের ঠিক আগে প্যাকেট খোলা: কিটের সিল করা প্যাকেটটি টেস্ট করার ঠিক আগ মুহূর্তে খোলা উচিত। বাতাসে আর্দ্রতা থাকলে স্ট্রিপটি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
অতিরিক্ত তরল পানের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা: সকালের প্রথম ইউরিন নেওয়ার আগে খুব বেশি পানি বা তরল খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। এতে ইউরিন পাতলা হয়ে যায় এবং hCG হরমোনের ঘনত্ব কমে গিয়ে পজিটিভ ফলাফলও নেগেটিভ দেখাতে পারে।
হালকা দাগ বা 'ফেইন্ট লাইন' (Faint Line) দেখা দিলে: যদি 'T' লাইনে খুব হালকা বা আবছা দাগ পড়ে, তবে ৩-৪ দিন পর সকালের প্রথম ইউরিন দিয়ে পুনরায় টেস্ট করুন।
অনেক সময় গর্ভধারণের একদম শুরুর দিকে হরমোনের মাত্রা কম থাকায় এমনটা হয়।
পজিটিভ ফলাফল এলে করণীয়: টেস্টের রেজাল্ট পজিটিভ আসার সাথে সাথেই একজন স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞের (Gynecologist) শরণাপন্ন হন।
ছবি সংগৃহীত
ডাক্তার আল্ট্রাসনোগ্রাফি (USG) এবং রক্ত পরীক্ষার (Beta hCG) মাধ্যমে গর্ভধারণের বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত করবেন এবং ফলিক অ্যাসিডসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ শুরু করবেন।
নেগেটিভ কিন্তু পিরিয়ড বন্ধ থাকলে: টেস্ট নেগেটিভ আসার পরও যদি পিরিয়ড না হয়, তবে এক সপ্তাহ অপেক্ষা করে আবার পরীক্ষা করুন।
অনেক সময় মানসিক চাপ, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা বা ওভারিয়ান সিস্টের কারণেও পিরিয়ড মিস হতে পারে। তাই দীর্ঘ সময় পিরিয়ড বন্ধ থাকলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
ঘরে বসেই পরীক্ষা করা প্রাথমিক নিশ্চিতকরণের জন্য দারুণ মাধ্যম, তবে এটি কখনোই ডাক্তারের ক্লিনিকাল পরীক্ষার বিকল্প নয়। নিজের ও অনাগত সন্তানের সুরক্ষায় সবসময় চিকিৎসকের গাইডলাইন মেনে চলুন।

