

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মাতৃত্বের অনুভূতি প্রতিটি নারীর জীবনেই এক অনন্য এবং রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। আর এই যাত্রার প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপটি হলো গর্ভধারণ বা প্রেগন্যান্সির সঠিক সময় নিশ্চিত করা।
মনের মধ্যে যখনই নতুন প্রাণের আগমনী বার্তা উঁকি দেয়, তখনই কৌতূহল আর উত্তেজনা যেন কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তবে এই পরীক্ষা করার একটি নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক নিয়ম ও সময় রয়েছে।
সঠিক সময়ে পরীক্ষা না করলে হরমোনের তারতম্যের কারণে ফলাফল ভুল আসার সম্ভাবনা থাকে।
তাই মানসিক উদ্বেগ এড়াতে এবং শতভাগ নির্ভুল ফলাফল পেতে ঠিক কখন এবং কীভাবে প্রেগনেন্সি টেস্ট করা উচিত, তা বিস্তারিত জানা অত্যন্ত জরুরি।
প্রেগন্যান্সি টেস্ট বা গর্ভধারণ পরীক্ষা করার ক্ষেত্রে সঠিক সময় নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক সময়ে পরীক্ষা না করলে অনেক সময় রেজাল্ট ভুল আসতে পারে।
পিরিয়ড বা মাসিক মিস হওয়ার ১ থেকে ২ দিন পর প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। এই সময়ে শরীরে গর্ভধারণের হরমোন, যাকে hCG (Human Chorionic Gonadotropin) বলা হয়, তার মাত্রা পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে। ফলে ঘরোয়া টেস্ট কিটগুলো খুব সহজেই এটি সনাক্ত করতে পারে এবং নির্ভুল ফলাফল (প্রায় ৯৯%) দেয়।
আজকাল বাজারে কিছু "আর্লি ডিটেকশন" কিট পাওয়া যায়, যা পিরিয়ড মিস হওয়ার ৪-৫ দিন আগেই পরীক্ষা করা যায় বলে দাবি করে। তবে, ডিম্বাণু নিষিক্ত হওয়ার পর শরীরে hCG হরমোন তৈরি হতে কিছুটা সময় লাগে।
তাই পিরিয়ড মিস হওয়ার আগে টেস্ট করলে হরমোনের মাত্রা কম থাকার কারণে রেজাল্ট 'ফলস নেগেটিভ' (গর্ভবতী হওয়া সত্ত্বেও নেগেটিভ রেজাল্ট) আসতে পারে।
দিনের যেকোনো সময় টেস্ট করা গেলেও, সকালের প্রথম ইউরিন (Morning's first urine) দিয়ে পরীক্ষা করা সবচেয়ে ভালো। রাতে দীর্ঘসময় প্রস্রাব আটকে থাকার কারণে সকালের প্রস্রাবে hCG হরমোনের ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি থাকে।
আপনি যদি দিনের অন্য সময়ে পরীক্ষা করতে চান, তবে চেষ্টা করবেন পরীক্ষার আগে অন্তত ৪ ঘণ্টা প্রস্রাব না চেপে রাখতে এবং অতিরিক্ত জল পান না করতে, কারণ বেশি জল পানে প্রস্রাব পাতলা হয়ে হরমোনের ঘনত্ব কমে যেতে পারে।
যাদের পিরিয়ড অনিয়মিত, তাদের ক্ষেত্রে সঠিক সময় নির্ধারণ করা কিছুটা কঠিন। এই পরিস্থিতিতে, আপনার শেষ মাসিকের পর সম্ভাব্য সবচেয়ে দীর্ঘতম চক্রটি হিসেব করে দিন পার হওয়ার পর পরীক্ষা করুন।
অথবা, সবশেষে যখন সহবাস করেছিলেন, তার থেকে ১৪ থেকে ২১ দিন (২-৩ সপ্তাহ) পর টেস্ট করলে সঠিক ফলাফল পাওয়া সম্ভব।
ঘরে করা পরীক্ষার রেজাল্ট যদি হালকা পজিটিভ বা অস্পষ্ট আসে, তবে ২-৩ দিন পর সকালের প্রথম প্রস্রাব দিয়ে পুনরায় পরীক্ষা করুন।
চূড়ান্ত নিশ্চিত হওয়ার জন্য রক্ত পরীক্ষা (Beta-hCG) এবং ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।
