মঙ্গলবার
২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩২ এএম আপডেট : ২১ জুলাই ২০২৬, ১০:১৫ এএম
শিক্ষার্থীদের রেলপথ অবরোধ
expand
শিক্ষার্থীদের রেলপথ অবরোধ

রাজশাহীতে পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) কর্তৃক মারধর ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছনার অভিযোগকে করে রেলপথ অবরোধ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

অভিযুক্ত টিটিইর শাস্তির দাবিতে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির ফলে রাজশাহীর সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের (৬৭তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ-সংলগ্ন রেললাইনে অবস্থান নেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পদ্মা এক্সপ্রেসে দায়িত্বরত টিটিই সরকারি রসিদ ছাড়াই যাত্রীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করছিলেন। এ বিষয়ে আপত্তি জানালে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে টিটিইর বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগোযুক্ত টি-শার্ট পরিহিত ওই শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তার সহপাঠীরা।

পরে ট্রেনটি রাজশাহী স্টেশনে পৌঁছানোর আগেই তাকে একটি পূর্ববর্তী স্টেশনে নামিয়ে দেওয়া হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।

ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা রেললাইনে অবস্থান নিয়ে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেন। তাদের দাবি, অভিযুক্ত টিটিই সুমনকে দ্রুত শিক্ষার্থীদের সামনে হাজির করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন রেলপথ দিয়ে কোনো ট্রেন চলাচল করতে দেওয়া হবে না বলেও ঘোষণা দেন তারা।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় জানার পরও একজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। আজ এর প্রতিবাদ না করলে ভবিষ্যতে অন্য শিক্ষার্থী বা সাধারণ যাত্রীও একই ধরনের ঘটনার শিকার হতে পারেন।”

এদিকে, অবরোধের কারণে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তাদের ভাষ্য, আন্দোলনের উদ্দেশ্য জনদুর্ভোগ সৃষ্টি নয়; বরং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা।

সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আলোচনা চলছিল। তবে অভিযুক্ত টিটিইর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন প্রত্যাহার করবেন না বলে জানিয়েছেন তারা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন