

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার উন্নয়ন সহায়তা তহবিল (এডিপি) আওতাধীন পিআইসি (প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন কমিটি) প্রকল্পের প্রায় ৪৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মো. আব্দুস সালামের ভাগিনা পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার করেন এবং অধিকাংশ প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে কাজ শুরু হওয়ার আগেই বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন করেন।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এডিপির আওতায় হরিপুর উপজেলায় মোট ১৮টি পিআইসি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে ১৬টি প্রকল্পের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মাসুদ রানা। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রকল্পের অধিকাংশের কাজ শুরু হওয়ার আগেই সভাপতিদের নামে ইস্যুকৃত চেকের মাধ্যমে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন তিনি। এতে প্রকল্পের অর্থ ব্যয় ও বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
একাধিক প্রকল্প সভাপতির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা প্রকল্পের বরাদ্দ, কাজের ধরন কিংবা বাস্তবায়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছুই জানেন না। এমনকি এলজিইডির মাধ্যমে কোন প্রকল্পে কী কাজ হবে, সে বিষয়েও তাদের কোনো ধারণা দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তারা।
ডাঙ্গীপাড়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ও তিনটি প্রকল্পের সভাপতি মশিউর রহমান বলেন, আমাকে শুধু বলা হয়েছে আমি সভাপতি। প্রকল্পের টাকা মাসুদ রানার কাছেই আছে। জানতে চাইলে বলা হয়েছে গাছ লাগানো হবে, হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হবে। এর বাইরে কিছু জানি না। সাংবাদিকরা জানতে চাইলে এতটুকুই বলতে বলেছেন।
আমগাঁও ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ও একটি প্রকল্পের সভাপতি আব্দুল করিম বলেন, ব্যাংক থেকে টাকা তুলে মাসুদ ভাইকে দিয়েছি। পরে কাজ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
অন্য কয়েকজন প্রকল্প সভাপতিও অভিযোগ করেন, তাদের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলন করা হলেও প্রকল্পের প্রকৃত কাজ, বরাদ্দের পরিমাণ কিংবা বাস্তবায়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। শুধু সময়মতো কাজ সম্পন্ন করা হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে হরিপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দীনও অভিযোগ করে বলেন, হরিপুরে সরকারি বরাদ্দ নিয়ে হরিলুট চলছে। এখানে মামা-ভাগিনা সিন্ডিকেট কাজ করছে। উপজেলা প্রকৌশলী ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাকিব এসব অনিয়মের মূল হোতা। তাদের যোগসাজশে সরকারি বরাদ্দের লাখ লাখ টাকা লুটপাট করা হচ্ছে। এমপির নাম ভাঙিয়ে এসব করছে মাসুদ রানা। এতে দল ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। বিষয়টি দলের ঊর্ধ্বতন নেতাদের জানিয়েছি।
এদিকে গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র ফারুক হাসান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ফারুক হাসান তার ব্যাক্তিগত ফেইসবুক পোস্টে অভিযোগ তুলে লেখেন, প্রিয় ঠাকুরগাঁও-২ আসনের জনগণ টের পাওয়া শুরু করেছেন, সামনে আরও পাবেন। কথা দিয়ে কথা রাখেননি, ফলাফল নিজের চোখেই দেখতে থাকুন। আমি আপনাদের পাশে আছি এবং থাকব ইনশাআল্লাহ।
অন্যদিকে অভিযোগটি প্রকাশ্যে আসার পর নিজস্ব ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দয়া এক পোস্টে ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মো. আব্দুস সালাম জানান, হরিপুর উপজেলার প্রকল্প বরাদ্দ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিষয়গুলো আমার নজরে এসেছে। আমি বিষয়টি জানার সাথে সাথেই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি এবং আমার নাম ভাঙিয়ে অথবা আমার নাম ব্যবহার করে যদি কেউ অনিয়ম করে, তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে অপরাধীর পরিচয় যাই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন এমপি।
তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানার সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চন্দন কর বলেন, অনিয়মের বিষয়টি শুনেছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হবে। প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করে বুঝে নেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।