

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


যশোরে ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজের আদালত বর্জনকে কেন্দ্র করে বিচার অঙ্গনে নতুন করে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তিনটি আদালত বর্জনের সিদ্ধান্তে অনড় অবস্থানে রয়েছে জেলা আইনজীবী সমিতি। এতে বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) বেলা ১২টায় যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির ১ নম্বর ভবনের সেমিনার কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন সমিতির নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু।
তিনি বলেন, ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ আইরিন পারভীনের আদালত বর্জনের পরও পরিস্থিতির কোনো সমাধান হয়নি। তার অভিযোগ, বিচারক আইনজীবীদের উপস্থিতি ছাড়াই বাদী ও আসামিপক্ষের স্বজনদের নিয়ে বিচারকাজ পরিচালনা করছেন এবং অতিরিক্ত পুলিশি উপস্থিতি ব্যবহার করছেন। এতে বিচারপ্রার্থীরা সঠিক আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।
সাবেরুল হক সাবু আরও বলেন, জামিন দেওয়া বা না দেওয়া নিয়ে আইনজীবীদের কোনো আপত্তি নেই। তবে তার মতে, সংশ্লিষ্ট বিচারক আইনগত বিষয়গুলো যথাযথভাবে পরিচালনা করতে পারছেন না। এ কারণে আইনজীবীরা সমিতিতে একাধিক অভিযোগ দেন এবং পরবর্তীতে অনাস্থা প্রকাশ করে আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তিনি জানান, এ বিষয়ে বিচারকের সঙ্গে আইনজীবী সমিতির বৈঠকও হয়েছিল এবং তখন সমঝোতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে পরিস্থিতির উন্নতি না হয়ে উল্টো অবনতির অভিযোগ ওঠে। এর প্রেক্ষিতে গত বুধবার জরুরি সভা করে সর্বসম্মতিক্রমে ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ আইরিন পারভীনের দুটি আদালত এবং যুগ্ম জেলা জজ রাশেদুর রহমানের আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে আইনজীবীরা আদালত বর্জন করলেও বিচারক আইনজীবী ছাড়াই বিচারকার্য শুরু করেছেন বলে অভিযোগ তোলেন সমিতির নেতারা। এতে বিচারপ্রার্থীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছেন বলে তারা দাবি করেন।
আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজকে সরিয়ে অন্য কোনো বিচারককে দায়িত্ব দেওয়া হলে তারা আদালতে ফিরে যাবেন। তবে এখন পর্যন্ত বিচার বিভাগ থেকে এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি বলেও অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহেদ আহমদও বারের সঙ্গে সমন্বয় না করেই আদালতের এজলাস শুরুর সময় পরিবর্তন করেছেন, যা নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আগামী বুধবার জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে এবং বিষয়টি সমাধানে আইনমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সিনিয়র আইনজীবী দেবাশীষ দাস, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম. এ. গফুর, সাবেক সভাপতি এম. ইদ্রিস আলী, শরীফ নুর মোহাম্মদ আলী রেজা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলম বাচ্চু ও সিনিয়র আইনজীবী মঈনুল হক খান ময়না প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, যশোরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ নাজমুল আলম গত বছরের ২৮ আগস্ট বদলি হন। পরে ৫ নভেম্বর মোহাম্মদ আলী যোগ দিলেও চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি তিনিও বদলি হন। এরপর জেলা জজের পদ শূন্য থাকায় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজদের মাধ্যমে আদালতের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল। সম্প্রতি অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এম. এম. মোর্শেদের বদলির পর আইরিন পারভীনকে ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলে নতুন করে অসন্তোষ শুরু হয়, যা এখন আদালত বর্জনের ঘটনায় রূপ নিয়েছে।
মন্তব্য করুন