

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বড়ঘোনা গ্রামের বাসিন্দা দিনমজুর মাহবুব (৫৬)।
একসময় অন্যের জমিতে দিনমজুরি করে কোনোমতে চলত তাঁর সংসার। কিন্তু প্রায় এক যুগ ধরে নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। দুই বছর আগে স্ত্রী মরিয়ম খাতুন মারা যাওয়ার পর তিন সন্তানকে নিয়ে তাঁর জীবন আরও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে।
সংসারে রয়েছে দুই ছেলে ও এক মেয়ে। ছোট ছেলে ফাহিম স্থানীয় মেহেরুন্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণিতে এবং মেয়ে শিফা অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। আর যে বয়সে স্কুলের বেঞ্চে বসে বই হাতে থাকার কথা, সেই বয়সেই সংসারের হাল ধরতে হয়েছে ১৬ বছরের বড় ছেলে সাহেলকে।
দিনমজুরের কাজ করে যা আয় হয়, তা দিয়ে কোনোভাবেই সংসারের খরচ মেটানো সম্ভব হয় না। বাবার ওষুধ, ছোট ভাই-বোনের লেখাপড়ার ব্যয় এবং পরিবারের খাবারের ব্যবস্থা—সবকিছুর দায়িত্ব এখন তার কাঁধে। অভাবের তাড়নায় অনেক সময় পরিবারের সদস্যদের আধাপেটা কিংবা না খেয়েই দিন কাটাতে হয়।
১৩ জুলাই (সোমবার) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ তাদের জীবনে নেমে আসে নতুন বিপর্যয়। বৃষ্টিতে ভেঙে পড়ে তাদের একমাত্র কাঁচা ঘরটি। মুহূর্তেই মাটির সঙ্গে মিশে যায় মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু। ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, শিশুদের বই-খাতা ও প্রয়োজনীয় সব জিনিসপত্র মাটির নিচে চাপা পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। ঘর হারিয়ে এখন পাশের একটি বাড়ির পরিত্যক্ত গোয়ালঘরেই আশ্রয় নিয়েছে পরিবারটি। সেখানেও নেই নিরাপত্তা। চালের ফাঁক দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে, চারপাশ স্যাঁতসেঁতে। রাতে মশার উপদ্রব, বিষাক্ত সাপের আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটছে তাদের প্রতিটি রাত।
অসুস্থ মাহবুব বলেন, আমি আর নিজের জন্য কিছু চাই না। শুধু আমার সন্তানগুলোর মাথা গোঁজার মতো একটি নিরাপদ ঘর চাই। অসুস্থ শরীরে কাজ করতে পারি না। বড় ছেলে একা কত করবে? অনেক সময় না খেয়েই দিন কাটাতে হয়।
চোখে অশ্রু নিয়ে সাহেল বলে, বাবার চিকিৎসা, ভাই-বোনের পড়াশোনা আর সংসারের খরচ একা সামলাতে খুব কষ্ট হয়। ঘর ভেঙে যাওয়ার পর আমরা একেবারেই অসহায় হয়ে পড়েছি। মানুষের একটু সহযোগিতা পেলে হয়তো আবার নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারব। স্থানীয়দের অভিযোগ, এত বড় বিপর্যয়ের পরও মাহবুবের পরিবার এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি সহায়তা, রাজনৈতিক দলের অনুদান কিংবা ব্যক্তিগত সহযোগিতা পায়নি। পরিবারটি এখনও মানবিক সহায়তার অপেক্ষায় দিন গুনছে।
একসময় নিজের পরিশ্রমে পরিবারের মুখে অন্ন তুলে দেওয়া মাহবুব আজ ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে অন্যের দয়ার ওপর নির্ভরশীল। ভাঙা ঘরের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর একটাই আকুতি—আমার সন্তানগুলোর মাথার ওপর একটি ছাদ ফিরিয়ে দিন।”
স্থানীয়দের দাবি, অসহায় এই পরিবারটির পাশে সরকার, জনপ্রতিনিধি, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি এবং মানবিক সংগঠনগুলো দ্রুত এগিয়ে এলে অন্তত পরিবারটি নতুন করে বেঁচে থাকার সাহস ফিরে পাবে।