

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বসন্তের ছোঁয়ায় মধুমাসের আগমনী বার্তা নিয়ে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় গাছে গাছে ফুটেছে আমের মুকুল। মিষ্টি সুবাসে মৌ মৌ করছে চারপাশের প্রকৃতি। বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে আমের মুকুলের মোহময় ঘ্রাণ, যা মুহূর্তেই মনকে বিমোহিত করে তোলে।
উপজেলার আমবাগানগুলো এখন যেন হলুদ আর সবুজের মহামিলনে রূপ নিয়েছে। সারি সারি আমগাছের প্রতিটি ডালপালা ছেয়ে গেছে মুকুলে। কোথাও কোথাও মুকুলের ভারে নুয়ে পড়েছে গাছ। সেই সুবাসে ছুটে আসছে মৌমাছির দল, ব্যস্ত মধু আহরণে। রঙিন বনফুল আর মুকুলের সমারোহে প্রকৃতি সেজেছে এক অপূর্ব বর্ণিল সাজে।
চলতি মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাগানসহ ব্যক্তি উদ্যোগে লাগানো প্রায় শতভাগ আমগাছেই এসেছে মুকুল। বড় গাছের তুলনায় ছোট ও মাঝারি আকারের গাছে তুলনামূলকভাবে বেশি মুকুল দেখা যাচ্ছে। অনেক গাছে ইতোমধ্যেই মুকুল থেকে বেরিয়েছে ছোট ছোট আমের গুটি, যা বাগান মালিকদের মনে জাগাচ্ছে সফলতার স্বপ্ন।
দেশি জাতের পাশাপাশি আম্রপালি, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, ফজলি, খিরসা, রাজভোগ, রূপালীসহ নানা জাতের আমের মুকুলে ভরে উঠেছে পুরো উপজেলা। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, শিকিরচর, সটাকী, ষাটনল, দেওয়ানজীকান্দি, ঘনিয়ারপাড়, বারআনী, ছেংগারচর, আদুরভিটা, রুহিতারপাড় ও উঠারচরসহ বিভিন্ন গ্রামে আমের মুকুলের হলুদ আভায় ঝলমল করছে চারপাশ। সূর্যের সোনালি আলোয় মুকুলগুলো ছড়াচ্ছে অপরূপ সৌন্দর্য।
আমের ফলন পুরোপুরি নির্ভর করছে আবহাওয়ার ওপর। বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর বাম্পার ফলনের আশায় বুক বাঁধছেন আমচাষি ও বাগান মালিকরা। ইতোমধ্যে তারা বাগানের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। মুকুল আসার আগেই গাছের সার, পানি ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত যত্ন নিচ্ছেন তারা।
উঠারচর গ্রামের আমবাগানের মালিক আব্দুল লতিফ মিয়াজি বলেন, “আমাদের বাগানের অধিকাংশ গাছেই এবার ভালোভাবে মুকুল এসেছে। কুয়াশা কম থাকায় মুকুল সুন্দরভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে। এখন ছত্রাকনাশক প্রয়োগসহ নিয়মিত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছি।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী জানান, মতলব উত্তর উপজেলার মাটি ও আবহাওয়া আম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। সে কারণে এখন শুধু বাণিজ্যিক বাগানেই নয়, বাড়ি বাড়িতেও আমের চাষ হচ্ছে। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গত বছরের তুলনায় আমের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আমরা আশা করছি।
মন্তব্য করুন