

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে কক্সবাজারে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। পাহাড়ধস, মাটির ঘরের দেয়াল ধস, জলাবদ্ধতা ও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে জেলার জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
সর্বশেষ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে উখিয়ায় ঘরের দেয়াল ধসে মো. আব্দুল মালেক (৪০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় দুর্যোগজনিত ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ জনে।
এর আগে উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির ও আশপাশের এলাকায় পৃথক পাহাড়ধসে ১২ জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে রোহিঙ্গা নারী-শিশুসহ স্থানীয় বাসিন্দারাও রয়েছেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্র জানায়, মঙ্গলবার বিকেল ৫ টার দিকে উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জামবাগান এলাকায় মো. নিজ বাড়িতে দুপুরের খাবার খাওয়ার সময় হঠাৎ একটি মাটির দেয়াল ধসে পড়ে। সাম্প্রতিক টানা বর্ষণে দেয়ালটি নরম ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেয়ালের নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন মো. আব্দুল মালেক।
স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে তাকে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে বিকেল ৫টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হলদিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে মাটির দেয়াল ধসে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। নিহতের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, টানা বর্ষণে উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে পৃথক কয়েকটি পাহাড়ধসে নারী-শিশুসহ আট রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়। এছাড়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনায় আরও চারজন স্থানীয় বাসিন্দার প্রাণহানি ঘটে। সব মিলিয়ে সর্বশেষ দেয়ালধসের ঘটনাসহ মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ জনে।
ভারী বর্ষণে জেলার বিভিন্ন উপজেলার অন্তত অর্ধশতাধিক নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের একাধিক স্থানে পানি ওঠায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় অনেক এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগর উত্তাল থাকায় কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌপথে জাহাজ চলাচলও বন্ধ রয়েছে। এতে সেন্টমার্টিন দ্বীপের সঙ্গে যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, কোস্ট গার্ড ও স্বেচ্ছাসেবীরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ বসতিতে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে একের পর এক প্রাণহানির ঘটনায় পাহাড়ী এলাকাজুড়ে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে না আসা পর্যন্ত পাহাড়সংলগ্ন ও মাটির ঘরে বসবাসকারী মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন জেলা আব্দুল মান্নানসহ সংশ্লিষ্টরা।