মঙ্গলবার
০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৫ বছর ধরে তালাবদ্ধ ভোলার একমাত্র আইসিইউ, পথেই মরছে মুমূর্ষু রোগী

এইচ. এম. হাবিবুল্লাহ্, ভোলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

উদ্বোধনের পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও আলোর মুখ দেখেনি ভোলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)। প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবলের অভাবে জীবনরক্ষাকারী আধুনিক যন্ত্রপাতিগুলো এক দিনের জন্যও চালু করা যায়নি। ফলে কোটি টাকার সরকারি সম্পদ যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি আইসিইউ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন নদীবেষ্টিত এই দ্বীপ জেলার ২২ লাখ মানুষ। সংকটাপন্ন রোগীদের বরিশাল বা ঢাকায় রেফার করা হলেও নদী পথ পাড়ি দিতে গিয়ে পথেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন অনেকে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ভোলা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় আইসিইউ ইউনিটের মূল দরজাটি তালাবদ্ধ। ভেতরে পড়ে আছে ধুলাবালিযুক্ত আইসিইউ বেড ও অন্যান্য জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, করোনা মহামারিকালীন ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময়ে দুই ধাপে কেন্দ্রীয় ঔষধাগার (সিএমএসডি) থেকে হাসপাতালটিতে ছয়টি পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ বেড, পাঁচটি ভেন্টিলেটর, সাতটি অক্সিজেন কনসেনট্রেটর এবং ছয়টি হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা সরবরাহ করা হয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষিত অ্যানেস্থেসিস্ট ও নিবিড় পরিচর্যা বিশেষজ্ঞ না থাকায় এগুলো পুরোপুরি অব্যবহৃত পড়ে আছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গুরুতর কোনো রোগী এলেই আইসিইউ না থাকার অজুহাতে চিকিৎসকেরা দ্রুত বরিশাল বা ঢাকায় রেফার করে দেন। সম্প্রতি হৃদরোগে আক্রান্ত এক রোগীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা না পেয়ে দুই দিন পর বরিশালে নিতে বাধ্য হন স্বজনরা।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা জাহাঙ্গীর নামের এক রোগীর স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "গত বছরের শেষের দিকে রাতে আমার এক নিকটাত্মীয় হৃদরোগে আক্রান্ত হলে হাসপাতালে আনি। আইসিইউ লাগবে বলে ডাক্তার দ্রুত বরিশালে নিতে বলেন। রাতেই স্পিডবোটে বরিশাল নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। হাসপাতালে আইসিইউ চালু থাকলে হয়তো উনাকে বাঁচানো যেত।"

হাসান নামের আরেক ভুক্তভোগী জানান, "সংকটাপন্ন রোগী এলে চিকিৎসকেরা কীভাবে দ্রুত হাসপাতাল থেকে বের করে দেবেন, সেই চিন্তায় থাকেন। অথচ চোখের সামনে ছয়টি আইসিইউ বেড বছরের পর বছর তালাবদ্ধ পড়ে আছে।"

হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মো. কায়ছার আলম সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, "প্রতিদিনই আইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন—এমন অনেক মুমূর্ষু রোগী হাসপাতালে আসেন। কিন্তু আমাদের সীমাবদ্ধতার কারণে তাঁদের অন্যত্র রেফার করতে হয়। এখানে আইসিইউ চালু করা গেলে রোগীদের অনেক বড় উপকার হতো।"

এ বিষয়ে ভোলা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. তৈয়বুর রহমান বলেন, "২০২১ সালে ছয়টি আইসিইউ বেড ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি এলেও দক্ষ জনবলের অভাবে আমরা সেগুলো চালু করতে পারিনি। আইসিইউ পরিচালনার জন্য যে বিশেষায়িত জনবল প্রয়োজন, তা চেয়ে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার লিখিতভাবে জানিয়েছি। তারা জনবল দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। প্রয়োজনীয় লোকবল পাওয়া গেলেই মুমূর্ষু রোগীদের এখানে পূর্ণাঙ্গ সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।"

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
Argentina VS Egypt
Scheduled
07 Jul, 10:00 PM
VS
World Cup