

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির ছাত্রাবাসে একটি আইফোন চুরির অপবাদ দিয়ে মেহেদী হাসান (১৪) নামে এক ছাত্রকে 'হত্যা'র অভিযোগে জড়িতদের বিচার চেয়ে সড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা।
পরে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেল ৩ টার দিকে বিক্ষোভ নিয়ে তারা দ্বিতীয় বারের মতো থানা ঘেরাও করে। একইসময় মেহদির বাবা জিয়া উদ্দিন অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দায়ের করেন।
জানা গেছে, দুপুর ২ টার দিকে মেহেদি হত্যার বিচার চেয়ে রামগঞ্জ সরকারি কলেজ গেইট থেকে বিক্ষোভ নিয়ে শহরের চৌরাস্তা এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি শুরু করে শিক্ষার্থীরা। এসময় শহরের চৌরাস্তায় অবরোধ করায় লক্ষ্মীপুর-রামগঞ্জ-হাজীগঞ্জ ও রামগঞ্জ-চাটখিল সড়কে ঘন্টাব্যাপী দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ নিয়ে রামগঞ্জ থানা ঘেরাও করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত মেহেদি রামগঞ্জ উপজেলার সোনাপুর বাজার এলাকার ব্যবসায়ী জিয়া উদ্দিনের ছেলে ও ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। সে প্রতিষ্ঠানের আব্দুর রহমান হলে থাকতেন। মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে ছাত্রাবাস থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে মেহেদিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করে রাতেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান গেইট ও অভ্যর্থনা কক্ষ ভাঙচুর করে উত্তেজিত এলাকাবাসী। পরে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে মেহেদির দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে একইদিন দুপুরে নিহতের মরদেহ নিয়ে রামগঞ্জ থানা ঘেরাও করে এলাকাবাসী ও স্বজনরা। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমি ৭ দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে বিবৃতি দেয় প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ খন্দকার আব্দুল মান্নান।
মেহেদির মা শারমিন আক্তার বলেন, একটি আইফোন হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সন্দেহ করে আমার ছেলেসহ কয়েকজনকে মারধর করা হয়। ওই ঘটনার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
নিহত মেহেদীর বাবা জিয়া উদ্দিন জিয়া বলেন, এজাহার জমা দিতে আমাদের সময়ক্ষেপন হয়েছে। পুলিশ আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছে এ ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনবে।
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বিকেলে শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে এজাহার জমা দিয়েছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে মামলা রুজু করা হবে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।