

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলো থেকে মা ও দুই মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের ৭ দিন পর অবশেষে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (৯ জুন) দিনগত মধ্যরাতে বরগুনা সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের স্বামী। এর আগে ঘটনার আলামত ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হতে পারে বলে জানায় পুলিশ।
কিন্তু বিষয়টিকে নিছক আত্মহত্যা মানতে নারাজ নিহতদের স্বজনরা। কেউ বা কারা তাদেরকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে বলে দাবি তাদের। এমনকি এর আগে কয়েকবার থানায় গিয়েও মামলা গ্রহণ না করার অভিযোগ করে নিহত ইতি রানীর ভাসুর মিলন চন্দ্র বিশ্বাস জানান, শনিবার রাতে বরগুনা সদর থানায় মামলা করতে গেলে থানার ওসি সাহেব আমাদের বলেন, মামলা করতে হলে বাদী পরিবর্তন করতে হবে। কারণ জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দেননি। আমরা বিষয়টি বুঝতে পারছি না। পুলিশ আমাদের বিভ্রান্ত করছে কি না। আমরা মামলা করতে গিয়ে পদে পদে বাধাগ্রস্ত হচ্ছি। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ দেখানোর নামে মামলার ক্ষেত্রে কালক্ষেপণ করছে।
ঘটনার সাত দিন পর সোমবার দিনগত মধ্যরাতে নিহতের স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বাদী হয়ে বরগুনা সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম জানান, এজাহারটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, “মৃত ইতি রানীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস আমাদের কাছে একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন। সেই লিখিত এজাহারের প্রেক্ষিতে থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করেছি। ঘটনার পরপরই এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়। অপমৃত্যুর মামলার পাশাপাশি এই হত্যা মামলারও তদন্ত কার্যক্রম চলমান থাকবে।”
প্রসঙ্গত, গত ৩ জুন বিকেলে ডাকবাংলোর একটি কক্ষ থেকে সেখানকার পরিচ্ছন্নতাকর্মী ইতি রানী এবং তার ১২ বছর বয়সী মেয়ে আরাধা বিশ্বাস ও ৩ বছর বয়সী মেয়ে অনুরাধা বিশ্বাসের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা ছিল, সন্তানদের হত্যার পর ওই নারী আত্মহত্যা করেছেন। তবে নিহতের স্বামী ও স্বজনদের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়; বরং একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ঘটনার পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ নিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে জেলা পুলিশের পাশাপাশি কাজ করছে সিআইডির ফরেনসিক টিম।