

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একসময় যে দলকে প্রায় অপ্রতিরোধ্য মনে করা হতো, সেই তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) এখন কঠিন এক বাস্তবতার মুখোমুখি। ক্ষমতা হারানোর মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দলটির ভেতরে অসন্তোষ প্রকাশ্যে এসেছে, নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, আর দলত্যাগের গুঞ্জন রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
পরিস্থিতি এমন যে অনেক পর্যবেক্ষক এখন একটি প্রশ্নই তুলছেন, এটি কি কেবল নির্বাচনী পরাজয়ের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া, নাকি টিএমসির দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক দুর্বলতা এবার সামনে চলে এসেছে?
২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটেছিল। সেই বিজয়ের মধ্য দিয়ে তিনি শুধু রাজ্যের রাজনীতির কেন্দ্রীয় চরিত্রই হননি, জাতীয় পর্যায়েও নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছিলেন। এরপর টানা দেড় দশক রাজ্য শাসন করেছে টিএমসি।
কিন্তু রাজনীতির সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হলো, ক্ষমতা কখনো স্থায়ী নয়।
সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজেপির কাছে ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই টিএমসির ভেতরে অস্বস্তি বাড়তে শুরু করেছে। একদিকে বিধায়ক ও সাংসদদের একটি অংশের অসন্তোষের খবর, অন্যদিকে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত ও রাজনৈতিক চাপ; সব মিলিয়ে দলটির সামনে তৈরি হয়েছে বহুমাত্রিক সংকট।
তবে সংকটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক সম্ভবত অন্য জায়গায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করেন, টিএমসির শক্তি বরাবরই অনেক বেশি নির্ভর করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং ক্ষমতার কাঠামোর ওপর। ফলে ক্ষমতা হারানোর পর দলটির সাংগঠনিক ভিত্তি কতটা দৃঢ়, সেই প্রশ্ন এখন সামনে চলে এসেছে।
দলের ভেতরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়েও আলোচনা বাড়ছে। ভারতের বিভিন্ন আঞ্চলিক দলের মতো এখানেও উত্তরাধিকার প্রশ্নটি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রতিষ্ঠাতা নেতার প্রতি আনুগত্য এবং উত্তরসূরির নেতৃত্ব মেনে নেওয়ার মধ্যে প্রায়ই বড় পার্থক্য দেখা যায়।
অন্যদিকে বিজেপির জাতীয় পর্যায়ের শক্তিশালী অবস্থানও সমীকরণ বদলে দিয়েছে। আগে অসন্তুষ্ট নেতাদের সামনে বিকল্প রাজনৈতিক আশ্রয় সীমিত ছিল। এখন সেই বাস্তবতা আর নেই। ফলে দলীয় ভাঙনের ঝুঁকিও বেড়েছে।
তারপরও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনৈতিকভাবে খারিজ করে দেওয়ার সুযোগ দেখছেন না বিশ্লেষকেরা। পশ্চিমবঙ্গে এখনও তিনি অন্যতম জনপ্রিয় রাজনৈতিক মুখ। প্রশ্ন হলো, ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাকে সংগঠনের শক্তিতে রূপান্তর করার মতো সময় ও সুযোগ তার হাতে আছে কি না।
কারণ একটি নির্বাচন হারানো এবং একটি রাজনৈতিক দলকে নতুন করে দাঁড় করানো—দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন চ্যালেঞ্জ। আর টিএমসির সামনে এখন দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জটিই সবচেয়ে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।
