

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ডুবতে বসা ৫টি ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) গ্রাহকরা পেলেন সুখবর। দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষে অবশেষে ফেরত পাচ্ছেন তাদের আমানত।
আজ বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্ষদ সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া আরো চারটি প্রতিষ্ঠানকে শর্ত সাপেক্ষে ৩ মাস সময় দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
সূত্র মতে, এস আলমের ভয়াল থাবায় ধ্বংসপ্রাপ্ত ৪টি সহ ৫টি এনবিএফআই এর গ্রাহকদের আমানত ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর জন্য সরকারের কাছ থেকে ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এ টাকা থেকে এসব প্রতিষ্ঠানে আমানত রাখা গ্রাহকদের ফেরত দেওয়া হবে।
এই ৫ প্রতিষ্ঠানের টাকা ফেরত দেওয়ার পর তাদের অবসায়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে। অবসায়নের জন্য চিহ্নিত পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো ফার্স্ট এশিয়া সিকিউরিটিজ (এফএএস) ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, অ্যাভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস। এর মধ্যে ৪টি প্রতিষ্ঠানই এস আলম সংশ্লিষ্ট।
এসব প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদের ৪টি ভাগে ভাগ করে টাকা ফেরত দেওয়া হবে। এরমধ্যে যাদের ১০ লাখ টাকার আমানত রয়েছে তাদের পুরো টাকা ফেরত দেওয়া হবে। এছাড়া আরো তিনটি ক্যাটেগরিতে ভাগ করা হয়েছে আমানতকারীদের। এর মধ্যে যাদের আমানত ১০ লাখ থেকে ৫০ লাখ, ৫০ থেকে ১ কোটি এবং ১ কোটি থেকে এর উপরে তাদের আলাদা আলাদা ক্যাটেগরিতে রাখা হয়েছে। এসব ক্যাটেগরির আমানতকারীদের সম্পূর্ণ টাকা ফেরত পাওয়ার সুযোগ কম বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এনপিবিকে জানিয়েছেন, পর্ষদ অনুমোদন দিলে প্রস্তাবটি দ্রুত অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক চেষ্টা করবে যাতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের ব্যবস্থা করা যায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বাধীন পর্ষদে অর্থ বিভাগের সচিব, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। আজকের এ সভাকে অবসায়ন প্রক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে গত ১২ মে অনুষ্ঠিত পর্ষদ সভায় প্রথম ধাপে পাঁচটি এনবিএফআই অবসায়নের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংক একটি বিস্তারিত বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রস্তুত করে। এতে আমানত ফেরতের অগ্রাধিকার, অর্থের উৎস, অর্থ বিতরণের পদ্ধতি এবং সম্ভাব্য সরকারি সহায়তার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থার এমন অবনতি হয়েছে যে প্রচলিত পুনরুদ্ধার বা পুনর্গঠন উদ্যোগে সেগুলোকে সচল করা সম্ভব নয়। ফলে আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় অবসায়নই সবচেয়ে কার্যকর পথ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এনপিবি নিউজকে বলেন, গত পর্ষদ সভায় পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়নের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ অবসায়নের শর্তাবলি ও একটি পূর্ণাঙ্গ কাঠামো প্রস্তুতের করেছে। এই কাঠামোর মূল লক্ষ্য হচ্ছে ক্ষুদ্র আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় প্রথম পর্যায়ে ক্ষুদ্র আমানতকারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। অর্থের প্রাপ্যতা ও সম্পদ বিক্রির অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী পর্যায়ে বড় আমানতকারীদের বিষয় বিবেচনা করা হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী গ্রাহকদের মূল আমানত ফেরত দেওয়া হবে।
সূত্র মতে, শুরুতে ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। সেখান থেকে ৩টি প্রতিষ্ঠান সময় চাইলে ৬টি অবসায়নের জন্য আগানো হয়। সেখান থেকেও প্রিমিয়ার লিজিং সময় চাইলে সর্বশেষ ৫টি অবসায়ন করা হচ্ছে প্রথম ধাপে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দুর্বল নয়টি এনবিএফআই এর প্রায় ১৫ হাজার ৩৭০ কোটি টাকার আমানত আটকে রয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৫২৫ কোটি টাকা ব্যক্তি আমানতকারীদের এবং ১১ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা ব্যাংক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের। এসব প্রতিষ্ঠানের বড় অংশই দীর্ঘদিন ধরে আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় হাজারো গ্রাহক আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
