

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইন্দোনেশিয়ায় আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের খবর সংগ্রহে গিয়ে পাঁচ সাংবাদিকসহ আটজন নিখোঁজ হয়েছেন। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দেশটির জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা জানিয়েছে, নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধারকারী দল অভিযান চালাচ্ছে।
উদ্ধার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বিকেলে রাজধানী জাকার্তার কাছের একটি এলাকা থেকে একটি স্পিডবোটে করে ওই আটজন রওনা হন। কিন্তু এরপর থেকে তারা আর ফেরেননি। এমনকি নৌযানটির মালিকও নৌকার কর্মীদের কাছ থেকে কোনো তথ্য পাননি।
নিখোঁজ পাঁচ সাংবাদিক ইন্দোনেশিয়ার আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে সেখানে যাচ্ছিলেন। গত শনিবার থেকে আগ্নেয়গিরিটির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে কয়েকটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। পাশাপাশি জাকার্তা ও আশপাশের কয়েকটি শহর আগ্নেয়গিরির ছাইয়ে ঢেকে গেছে।
নিখোঁজ সাংবাদিকরা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করছিলেন। তাদের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আন্তারা, তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আইনিউজের সাংবাদিক রয়েছেন।
উদ্ধার সংস্থা জানায়, নিখোঁজ সাংবাদিকদের একজন সোমবার বিকেল ৩টার দিকে এক সহকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজের অবস্থান জানিয়েছিলেন। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধারকারী দল, পুলিশ এবং স্পিডবোটটির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে কাজ করছে।
স্থানীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার প্রধান আল আমরাদ এক বিবৃতিতে জানান, স্পিডবোটটিতে পাঁচ সাংবাদিকের পাশাপাশি দুজন নৌকাকর্মী ও একজন গাইড ছিলেন।
দেশটির সম্প্রচারমাধ্যম কমপাস টিভিকে তিনি বলেন, মঙ্গলবারের উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়েছে। বুধবার আবার অভিযান শুরু হবে।
ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আন্তারা নিশ্চিত করেছে, তাদের আলোকচিত্রী মুহাম্মদ বাগুস খোইরুনাস নিখোঁজ নৌযানের যাত্রীদের একজন ছিলেন।
আন্তারা জানিয়েছে, নিখোঁজদের বিষয়ে আরও তথ্য পেতে তারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছে। তবে পুলিশ তাদের জানিয়েছে, উত্তাল ঢেউ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সমুদ্রে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বীপপুঞ্জের দেশ ইন্দোনেশিয়ায় নৌদুর্ঘটনা নিয়মিতই ঘটে। এর পেছনে দুর্বল নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং বৈরী আবহাওয়াকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হয়।
এর আগে জানুয়ারিতে পূর্ব ইন্দোনেশিয়ার উপকূলে একটি নৌযান ডুবে তিন স্প্যানিশ পর্যটকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ১০ বছর বয়সী এক বালক নিখোঁজ হয়। পরে কর্তৃপক্ষ নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান অভিযান বন্ধ করে দিলে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত বলে ধরে নেওয়া হয়।

