বৃহস্পতিবার
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘কেয়ামতের মাছ’ ভেসে আসার পরই শুরু ধ্বংসলীলা, কাকতালীয় নাকি সংকেত?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand

ইন্দোনেশিয়ার একটি সৈকতে কিছুদিন আগে ভেসে আসে ১৩ ফুট দীর্ঘ একটি বিরল ‘ওরফিশ’। এটি লোকমুখে ‘কেয়ামতের মাছ’ বা ‘প্রলয়ংকরী মাছ’ বা ‘ডুমসডে ফিশ’ নামে পরিচিত। এর ঠিক ছয় দিন পর দেশটিতে প্রায় একই সঙ্গে ছয়টি আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে এবং এর পরদিনই ৪,৬০০ কিলোমিটার দূরে নেপালে ঘটে যায় এক ভয়াবহ বন্যা।

সংবাদমাধ্যম ডেটিকবালিকে সেকারোহ গ্রামের তেলোন হ্যামলেটের প্রধান সাহলান জানান, কমোডো দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের ‘পিঙ্ক বিচ’-এ মাছটি ভেসে আসে। রাতে সেখানে ক্যাম্পিং করা এক পর্যটক সকালে এটি প্রথম দেখতে পান। বিরল এই গভীর সমুদ্রের প্রাণীকে দেখে সৈকতে থাকা দর্শনার্থীরা স্তম্ভিত হয়ে যান। পরে একদল শিশু এবং এক বয়স্ক ব্যক্তি মিলে ১৩ ফুট দীর্ঘ মাছটিকে সৈকত থেকে সরিয়ে নিয়ে যান।

সাহলান জানান, মাছটি ভেসে আসায় স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হলেও সে সময় ওই এলাকার পরিবেশ শান্ত ছিল। তবে এর ঠিক ছয় দিন পর, ৩১ আগস্ট ইন্দোনেশিয়ার ‘সেন্টার ফর ভলকানোলজি অ্যান্ড জিওলোজিক্যাল হ্যাজার্ড মিটিগেশন’ (পিভিএমবিজি) জানায়, দেশে অন্তত ছয়টি আগ্নেয়গিরিতে প্রায় একই সময়ে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়।

অগ্ন্যুৎপাত হওয়া আগ্নেয়গিরিগুলোর মধ্যে রয়েছে উত্তর সুমাত্রার মাউন্ট সিনাবুং এবং মাউন্ট আনাক ক্রাকাতাউ, যার ছাই জাভা ও সুমাত্রার ওপর প্রায় ৫০ হাজার ফুট উঁচুতে উঠে যায়। এছাড়া উত্তর মালুকুর মাউন্ট ইবু, পূর্ব নুসা তেনগারার মাউন্ট লেউওতোবি পেরেমপুয়ান ও ইলি লেউওতোলোক এবং পূর্ব জাভার মাউন্ট সেমেরু এতে আক্রান্ত হয়। তবে পিভিএমবিজি প্রধান সিতি সুমিলা রিতা সুসিলাওয়াতি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই ছয়টি অগ্ন্যুৎপাতের মধ্যে কোনও পারস্পরিক সংযোগ নেই।

অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়ায় মাছটি দেখার পরদিনই, অর্থাৎ ২৬ আগস্ট প্রায় ৪,৬০০ কিলোমিটার দূরে নেপালে এক বিধ্বংসী দুর্ঘটনা ঘটে। হিমবাহের হ্রদ থেকে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় পুরো গ্রাম ভেসে যায় এবং ১,৩০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।

প্রকৃতির অতি গভীরে বাস করা ওরফিশ খুব কমই সমুদ্রের উপরিভাগে আসে। জাপানি লোকগাথা অনুসারে, এই মাছের দর্শন পাওয়াকে অশুভ সংকেত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জাপানি ভাষায় একে বলা হয় ‘রিউগু নো সুকাই’, যার অর্থ ‘সমুদ্র দেবতার প্রাসাদের বার্তা বাহক’। বিশ্বাস করা হয়, কোনও বিপর্যয় ঘটার আগে মানবজাতিকে সতর্ক করতেই এরা ওপরে ভেসে ওঠে।

এক জাপানি উপকথা অনুযায়ী, ১৮১৯ সালের এপ্রিলে সুশিমা উপকূলে ৩০ ফুটের একটি ওরফিশ দেখা গিয়েছিল। সে সময় প্রায় ৮০০ মানুষ নৌকায় করে একত্রিত হয়ে সেটির দিকে ৩০টি বন্দুক দিয়ে গুলি চালালেও মাছটি নড়েনি। সাত দিন পর সেটি বলে ওঠে, ‘আমাকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমি ড্রাগন প্যালেস থেকে বিশেষ কারণে এসেছি। চলতি বছরেই এক মহামারি আসবে এবং অনেক মানুষ মারা যাবে’।

যদিও স্থানীয়রা ভূমিকম্প, সুনামির কিংবা বন্যার মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সঙ্গে এই মাছের উপস্থিতিকে সম্পৃক্ত করেন তবে বিজ্ঞানীরা বারবার জোর দিয়ে বলেছেন যে ওরফিশ দেখার সঙ্গে কোনও ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের বৈজ্ঞানিক কোনও সম্পর্ক নেই।

সূত্র: উইয়ন নিউজ

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank