বৃহস্পতিবার
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর, এক ভিসায় যাওয়া যাবে মধ্যপ্রাচ্যের ৬ দেশে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand

ভ্রমণ ভিসা নিয়ে বড় সুখবর পাচ্ছেন ভ্রমণ পিপাসুরা। মধ্যপ্রাচ্যের ছয় দেশে নতুন ধরনের ভ্রমণ ভিসা শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে। গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) মহাসচিব জাসেম মোহাম্মদ আল-বুদাইউই জানিয়েছেন, ‘জিসিসি গ্র্যান্ড ট্যুরিস্ট ভিসা’র মাধ্যমে পর্যটকরা একটি মাত্র ভিসায় ছয়টি উপসাগরীয় দেশেই ভ্রমণ করতে পারবেন। এই পদক্ষেপ শিগগিরই আলোর মুখ দেখবে বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) খালিজ টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ভিসা চালু হলে আন্তর্জাতিক পর্যটকেরা একটি ভিসা ব্যবহার করেই সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার, ওমান ও কুয়েত ভ্রমণ করতে পারবেন। ইউরোপের শেনজেন ভিসার মতোই এই ব্যবস্থায় ছয়টি দেশে যাতায়াতের সুযোগ থাকবে।

গেল ৬ সেপ্টেম্বর রিয়াদে অনুষ্ঠিত ‘সিকিউরিটি অ্যান্ড হিস্ট্রি ডায়ালগ ২০২৬’-এর বিশেষ অধিবেশনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জিসিসি মহাসচিব। তবে ভিসাটি ঠিক কবে চালু হবে, এর খরচ কত হবে, কতদিন কার্যকর থাকবে বা আবেদনের প্রক্রিয়া কী হবে- এসব বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।

এর আগে খালিজ টাইমস জানিয়েছিল, একীভূত ভিসাটি অনুমোদিত হয়েছে এবং এটি বাস্তবায়নের কাজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষ পরিচালনা করছে।

একীভূত ভিসার প্রেক্ষাপট ২০২৩ সালের অক্টোবরে জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর পর্যটনমন্ত্রীরা সর্বসম্মতভাবে একীভূত পর্যটন ভিসার প্রস্তাব অনুমোদন করেন। পরের মাসে পরিষদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরাও একীভূত উপসাগরীয় পর্যটন ভিসার অনুমোদন দেন। এর মাধ্যমে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের আরও এক ধাপ এগিয়ে যায়।

২০২৫ সালের জুনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থমন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন তৌক আল মাররি খালিজ টাইমসকে জানিয়েছিলেন, একক উপসাগরীয় পর্যটন ভিসা অনুমোদিত হয়েছে এবং এখন তা বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।

আল মাররি এই একক ভিসা ব্যবস্থাকে আঞ্চলিক সংহতি জোরদার এবং একটি একক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলের আকর্ষণ বৃদ্ধির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন। তবে তখনও ভিসাটি চালুর সঠিক তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। এর খরচ ও মেয়াদও প্রকাশ করা হয়নি।

আল-বুদাইউই এমন একাধিক প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেছেন, যেগুলোর লক্ষ্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের সদস্যদেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সংহতি বাড়ানো এবং মানুষের চলাচল সহজ করা।

এর উদাহরণ হিসেবে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের একক পয়েন্টের আকাশপথে ‘সিঙ্গেল-পয়েন্ট এয়ার ট্রাভেল’ প্রকল্পের কথা বলেন। রিয়াদের সংলাপে আল-বুদাইউই বলেন, ‘আপনি বাহরাইনে পাসপোর্টের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন এবং আবুধাবি, দুবাই, শারজাহ বা যেকোনো শহরে পৌঁছানোর পর অভিবাসন কর্মকর্তার বাধা না পেয়েই প্রবেশ করতে পারবেন।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ওয়ান-পয়েন্ট এয়ার ট্রাভেলার্স’ প্রকল্পের পরীক্ষামূলক ধাপ চালু করে। প্রাথমিকভাবে আবুধাবির জায়েদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বাহরাইন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়।

এই ব্যবস্থায় ইলেকট্রনিক সংযোগ, বায়োমেট্রিক পরিচয় যাচাই ও স্বয়ংক্রিয় প্রবেশপথ ব্যবহার করে যাত্রীদের তথ্য আগেই যাচাই করা হয়। ২০২৫ সালের নভেম্বরে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ ‘ওয়ান-স্টপ’ ভ্রমণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ব্যবস্থা অনুমোদন করে। পরীক্ষামূলকভাবে এটি পরিচালনার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনকে বেছে নেয়া হয়।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে উপসাগরীয় দেশগুলোর নাগরিকেরা গন্তব্যে পৌঁছে আবার অভিবাসন ও অন্যান্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিবর্তে যাত্রার আগেই একটি স্থানে এসব প্রক্রিয়া শেষ করতে পারবেন।

তবে একক স্থানে ভ্রমণ প্রক্রিয়া এবং একীভূত পর্যটন ভিসা দুটি আলাদা প্রকল্প। প্রথমটি উপসাগরীয় দেশগুলোর নাগরিকদের যাতায়াত সহজ করার জন্য, আর পর্যটন ভিসাটি বিদেশি পর্যটকদের জন্য পুরো অঞ্চলে চলাচল সহজ করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank