

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


টানা ভারী বৃষ্টির পর সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে শ্রীলঙ্কার মধ্যাঞ্চলে অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ি এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ায় সেখানকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার।
দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র জানিয়েছে, মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ভূমিধসে দুটি বাড়ি ধসে পড়ে সাতজন নিহত হন। এ ছাড়া বন্যার পানিতে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্যোগে অন্তত ১২৯টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
উদ্ধারকাজে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় পানিবন্দী মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, প্লাবিত সড়ক পেরিয়ে উদ্ধারকারীরা আটকে পড়া পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নুওয়ারা এলিয়া ও বাদুল্লাসহ মধ্যাঞ্চলের পাহাড়ি জেলাগুলো। খাড়া পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে বর্ষা মৌসুমে এসব এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে।
এই দুর্যোগ এমন সময় আঘাত হানল, যখন অঞ্চলটি এখনো আগের বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। ২০২৫ সালের শেষ দিকে ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহের প্রভাবে একই এলাকায় ব্যাপক বন্যা ও ভূমিধস হয়। ওই দুর্যোগে শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং অবকাঠামোর বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়। সে সময়ও দেশজুড়ে স্কুল ও সরকারি কার্যালয় সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছিল।
দুর্যোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, অল্প সময়ের ব্যবধানে একের পর এক চরম আবহাওয়ার ঘটনায় শ্রীলঙ্কার দুর্যোগ মোকাবিলা ব্যবস্থা নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। আবহাওয়ার পরিস্থিতি উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার স্কুল পুনরায় চালুর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।