

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি সংসদের উদ্যোগে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিজা বিনতে সামস, অনুষ্ঠান বিষয়ক সম্পাদক ইকরামুল হাসান নাবিল এবং প্রচার সম্পাদক সানজানা রিধি বর্তমান কমিটি গঠন, সাংগঠনিক কার্যক্রম ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে ওয়ালিজা বিনতে সামস বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে আবৃত্তি সংসদে বিভিন্ন অনিয়ম, অসহযোগিতা এবং সাংগঠনিক সংকট তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি ঘোষিত নতুন কমিটিকে কেন্দ্র করে এসব প্রশ্ন আরও প্রকট হয়েছে। ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা থেকেই তারা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন বলে তিনি জানান।
তিনি দাবি করেন, নতুন কমিটি সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুসরণ করে গঠন করা হয়নি। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি নির্বাচন কমিটি থাকার কথা, যেখানে মডারেটর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের মধ্য থেকে সদস্য নির্বাচন করা হবে। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ওয়ালিজা আরও অভিযোগ করেন, কমিটি ঘোষণার নথিতে প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর ছিল না এবং চলমান সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তাকে কোনোভাবেই এ বিষয়ে অবহিত করা হয়নি। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে জারি করা কারণ দর্শানোর নোটিশের নিষ্পত্তি না করেই নতুন কমিটি প্রকাশ করা হয়েছে, যা তিনি গঠনতন্ত্রবিরোধী বলে দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমান সভাপতি হিসেবে যাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রত্ব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হওয়ায় টিএসসির কোনো ক্লাবের সভাপতি হওয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এ দাবির পক্ষে নথিপত্র রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আর্থিক বিষয়েও একাধিক অভিযোগ তুলে ধরে ওয়ালিজা বলেন, সংগঠনের কর্মশালা, স্পন্সরশিপ এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত অর্থের কোনো পূর্ণাঙ্গ হিসাব কার্যনির্বাহী কমিটির সামনে উপস্থাপন করা হয়নি। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি বারবার হিসাব চাইলেও তা পাননি বলে অভিযোগ করেন। বরং হিসাব চাইতে গিয়ে তিনি অসহযোগিতা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন।
অনুষ্ঠান বিষয়ক সম্পাদক ইকরামুল হাসান নাবিল বলেন, সংগঠনের প্রতিষ্ঠাকালীন গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নতুন কমিটি গঠনের জন্য কার্যনির্বাহী সভা এবং নির্ধারিত নির্বাচন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এসব প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই একক সিদ্ধান্তে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এছাড়া সংগঠনের নাম পরিবর্তন, গঠনতন্ত্র উপেক্ষা এবং ভিন্নমতাবলম্বী সদস্যদের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে দূরে রাখার অভিযোগও তোলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে এবং যারা প্রশ্ন তুলেছেন বা ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন, তাদের ধারাবাহিকভাবে প্রান্তিক করা হয়েছে। ফলে সংগঠনের অভ্যন্তরে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
প্রচার সম্পাদক সানজানা রিধি অভিযোগ করেন, সংগঠনের নতুন অফিসিয়াল পেজ থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তবিরোধী ও বিশ্ববিদ্যালয় নীতিবিরোধী আচরণের অভিযোগ আনা হলেও এসব অভিযোগের কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা বা প্রমাণ তাকে জানানো হয়নি। এমনকি তদন্ত কমিটি গঠনের আগেই তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যা তিনি অন্যায় ও মানহানিকর বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও তাকে দেওয়া হয়নি। তাই তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান এবং অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা সম্প্রতি ঘোষিত কমিটিকে "অগণতান্ত্রিক", "অসাংবিধানিক" ও "স্বেচ্ছাচারমূলক" বলে আখ্যায়িত করেন। তারা দাবি করেন, সংগঠনের গঠনতন্ত্র মেনে নতুন করে প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হবে এবং সংগঠনের আর্থিক ও প্রশাসনিক বিষয়ের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।
উল্লেখ্য, সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত এসব অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বক্তাদের বক্তব্য। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি সংসদের বর্তমান কমিটি বা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও প্রকাশ করা হবে।