

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের সাবেক প্রেমিকা অ্যাশলে সেন্ট ক্লেয়ার বলেছেন, মাস্ক তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের (সাবেক টুইটার) মাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চরম বিভাজন সৃষ্টি করছেন। সময়মতো এটি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা অ্যালেক্স গিবনির নতুন প্রামাণ্যচিত্র ‘মাস্ক’-এ এসব কথা বলেছেন সেন্ট ক্লেয়ার। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে প্রামাণ্যচিত্রটির উদ্বোধনী প্রদর্শনীর সময় তিনি জানান, এক টেক্সট বার্তায় মাস্ক তাকে বলেছিলেন, ‘আমি তোমার সঙ্গে সন্তান চাই, কারণ- গৃহযুদ্ধ লাগার আগেই আমার সন্তানদের একটি বাহিনী দরকার।’
২০২৪ সালে এই দম্পতির ঘরে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়, তবে পরবর্তী সময়ে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। ক্লেয়ার দাবি করেন, একটি গোপনীয়তার চুক্তিতে (এনডিএ) স্বাক্ষর করার বিনিময়ে ইলন মাস্ক তাকে এককালীন ৪ কোটি ডলার ও প্রতি মাসে ১ লাখ ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু ক্লেয়ার ওই চুক্তি স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করার পর প্রস্তাবটি বাতিল করে নেওয়া হয়।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ক্লেয়ার বলেন, ইলন মাস্ক গৃহযুদ্ধ নিয়ে কেবল আতঙ্কিত ছিলেন নাকি তিনি নিজেই সক্রিয়ভাবে তা উসকে দিচ্ছেন, তা নিশ্চিত না হলেও এক্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মাস্ক যা করছেন তা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কারণ তিনি এমন আগুন উসকে দিচ্ছেন, বাস্তব দুনিয়ায় যার কোনো অস্তিত্বই নেই।
তিনি দাবি করেন, মাস্কের এই প্ল্যাটফর্মের যাবতীয় ইনপুট বাস্তব জগতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। যদি এটিকে নিয়ন্ত্রণে আনা না হয় কিংবা সবাই মিলে এই উসকানি থামানোর উদ্যোগ না নেয়, তবে এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভাজন এক বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটাতে পারে।
দীর্ঘ তিন বছর ধরে নির্মিত চার ঘণ্টার এই বিশদ প্রামাণ্যচিত্রটির নির্মাতা গিবনি বলেন, সভ্যতা ধ্বংসের বিষয়ে মাস্কের এই অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা ও মানসিক আবেশ মূলত তার দক্ষিণ আফ্রিকায় কাটানো শৈশবকাল থেকে হতে পারে। গিবনি উল্লেখ করেন, মাস্ক অত্যন্ত কঠিন ও মানসিক যন্ত্রণাদায়ক শৈশব পার করেছেন এবং তিনি অবচেতনভাবেই যেন সেই মানসিক আঘাত এখন পুরো বিশ্বের ওপর চালিয়ে দিচ্ছেন।

