

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ঘিরে চলমান শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যেই সপ্তম দিনের পরীক্ষায় বড় সংখ্যক পরীক্ষার্থীর অনুপস্থিতির তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। বুধবার (১৫ জুলাই) অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় মোট ২০ হাজার ৫২ জন শিক্ষার্থী অংশ নেননি, যা চলতি পরীক্ষার অন্যতম সর্বোচ্চ অনুপস্থিতির ঘটনা।
শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে বৈরী আবহাওয়া, ভারী বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন ১৯ হাজার ৫৯২ জন পরীক্ষার্থী। সে তুলনায় বুধবার অনুপস্থিতির সংখ্যা আরও বেড়েছে।
বুধবার সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, যুক্তিবিদ্যা দ্বিতীয় পত্র ও হিসাববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আরবি দ্বিতীয় পত্র এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা-২, উচ্চতর গণিত-২ ও উচ্চতর হিসাববিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হয়।
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ৪ লাখ ৫৩ হাজার ৮৩৯ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ৪ লাখ ৪১ হাজার ৭৩৮ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ১২ হাজার ১০১ জন।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ৬৮ হাজার ৪৬১ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ৬৩ হাজার ৬০৬ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৪ হাজার ৮৫৫ জন।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ৮০ হাজার ৩০৪ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ৭৭ হাজার ২০৮ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৩ হাজার ৯৬ জন।
এদিকে অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ১০ জন এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ৫ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে বহিষ্কারের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে বন্যা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন বুধবারের পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে।
সম্প্রতি পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রে ভুল, বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে পরীক্ষা আয়োজন এবং এসব ইস্যুকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। মঙ্গলবার ও বুধবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। একই সময়ে এইচএসসি পরীক্ষায় অনুপস্থিতির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
এদিকে জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বিবৃতিতে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, প্রতিকূল আবহাওয়া বা অনিবার্য কারণে যারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তারা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের স্থগিত হওয়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অভিন্ন প্রশ্নপত্রে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্ধারিত তারিখে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।
তিনি আরও জানান, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রে ভুলের ঘটনায় দায়ীদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং ভুল প্রশ্নের জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।