

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে এনপিবি নিউজে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছিলো। ওই প্রতিবেদনে গত এক মাসে পাঁচটি হত্যাকাণ্ডসহ চুরি, ডাকাতি ও মাদক বাণিজ্যের বিস্তারের চিত্র তুলে ধরা হলে জনমনে উদ্বেগ ও আতঙ্ক আরও বাড়ে।
গত ৭ জুলাই “বাহুবলে ১ মাসে ৫ খুন,জনমনে আতঙ্ক” শিরোনামে এনপিবি নিউজে সংবাদ প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পরপরই প্রশাসন নড়েচড়ে বসে এবং এলাকায় শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে ওসির ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভ দেখা দেয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। অনেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নয়ন ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলায় অপরাধ প্রবণতা বাড়লেও তা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতি ছিল। হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলোর বেশ কয়েকটির তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়। একই সঙ্গে চুরি, ডাকাতি ও মাদক বাণিজ্যের বিস্তার পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তোলে।
এরই মধ্যে বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলামকে বদলি করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। গতকাল (১৪ জুলাই) রাতে তিনি দায়িত্ব হস্তান্তর করেন থানার ওসি (তদন্ত) ইকতার মিয়ার কাছে, যিনি সাময়িকভাবে থানার দায়িত্ব পালন করবেন।
বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ। তিনি জানান, এটি নিয়মিত প্রশাসনিক বদলি। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
এদিকে স্থানীয়দের একটি অংশ মনে করছেন, সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতেই এই বদলি হয়েছে। তাদের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
সচেতন মহল বলছেন, শুধু কর্মকর্তা বদলিই যথেষ্ট নয়; অপরাধ দমন, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। অন্যথায় বাহুবলের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।
তাদের দাবি, সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।