

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


শরীরের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য ধরে রাখতে কিডনির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রক্ত থেকে ক্ষতিকর বর্জ্য ও অতিরিক্ত তরল অপসারণ, শরীরে পানি ও খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করার মতো নানা কাজ করে এই অঙ্গ।
তবে কিডনি রোগের ঝুঁকির সবচেয়ে বড় দিক হলো—অনেক সময় শুরুতে কোনো স্পষ্ট উপসর্গ দেখা যায় না। ফলে রোগী বুঝে ওঠার আগেই কিডনির কার্যক্ষমতা অনেকটা কমে যেতে পারে। এ কারণে শুরু থেকেই সচেতন থাকা প্রয়োজন।
যেসব কারণে কিডনি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে কিডনি রোগ বাড়ার পেছনে জীবনযাত্রার পরিবর্তন বড় কারণ। এর মধ্যে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
দীর্ঘদিন রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে কিডনির সূক্ষ্ম রক্তনালিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একইভাবে নিয়ন্ত্রণহীন উচ্চ রক্তচাপ কিডনির ফিল্টারিং ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে। ধীরে ধীরে এর প্রভাবে কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই নিয়মিত ব্যথার ওষুধ সেবন করেন। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত মাত্রায় ব্যথানাশক ব্যবহার করলে কিডনির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই প্রয়োজন ছাড়া এসব ওষুধ গ্রহণ না করাই ভালো।
শরীরচর্চা বা স্বাস্থ্য ভালো রাখার উদ্দেশ্যে অনেকেই নিজের ইচ্ছায় প্রোটিন পাউডার, হারবাল পণ্য কিংবা বিভিন্ন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। তবে সব ধরনের সাপ্লিমেন্ট সবার জন্য উপযোগী নয়। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কিডনি ভালো রাখতে যেসব অভ্যাস গড়ে তুলবেন
কিডনি সুরক্ষায় বড় কোনো পরিবর্তনের চেয়ে নিয়মিত কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস বেশি কার্যকর।
শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পান করা কিডনির স্বাভাবিক কাজ বজায় রাখতে সাহায্য করে। সাধারণভাবে পর্যাপ্ত পানি পান করলে শরীরের বর্জ্য সহজে বের হয় এবং কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমতে পারে। তবে অতিরিক্ত পানি পান করাও সবসময় উপকারী নয়।
নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা উচিত। কম লবণযুক্ত সুষম খাবার, নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা কিডনি ভালো রাখতে সহায়ক।
সামান্য অসুস্থতায়ও নিজের সিদ্ধান্তে ওষুধ খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। দীর্ঘদিন কোনো ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ।
কিডনি সুস্থ রাখতে সচেতন জীবনযাপনই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুললে এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে দীর্ঘদিন ভালো রাখা সম্ভব।
