

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ম্যাকাইয়ের কন্ডিশনে দুই বাঁহাতি পেসারের দাপট। সকালে মিচেল স্টার্কের ৬ উইকেট, বিকেলে বাংলাদেশের শরীফুল ইসলামের ৬ উইকেট। তাতে প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হওয়ার ধাক্কা সামলে ম্যাচে টিকে থাকার সুযোগ তৈরি করেছে বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মিরপুরে ওয়ানডেতেও ৬ উইকেট নিয়েছিলেন শরীফুল। এবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নেমেও একই কীর্তি। তার বোলিংয়ের সামনে অস্ট্রেলিয়া দিন শেষ করেছে ৮ উইকেটে ১৬৫ রানে। বাংলাদেশের চেয়ে তাদের লিড ১০১ রান।
টেস্টে প্রথমবার ৫ উইকেটের মাইলফলক ছোঁয়ার পরও শরীফুলের আনন্দটা পুরোপুরি নয়। ম্যাচ জিততে চান তিনি। দিন শেষে বলেছেন, ‘অনুভূতি অবশ্যই ভালো। প্রথমত, ধন্যবাদ জানাই আল্লাহ-তাআলাকে। গতবার যেটা পেয়েছিলাম, ওটাও ভালো লেগেছিল। সত্যি আরও ভালো লাগত, যদি ম্যাচটা জিততাম। ৫ উইকেট পেয়েছি বলে আমি এখনই খুব খুশি নই। যদি ম্যাচ জিতি, তবে অনেক খুশি হব।’
ম্যাকাইয়ের বাতাস ও উইকেট যে পেসারদের জন্য সহায়ক, সেটি দুই ইনিংসেই স্পষ্ট হয়েছে। নতুন বলে প্রায় ২০–২৫ ওভার পর্যন্ত সুইং পেয়েছেন বোলাররা। সকালে স্টার্কের বোলিং দেখেই শরীফুল বুঝতে চেষ্টা করেছেন কোন লেংথে বল করলে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাওয়া যায়।
শরীফুলের ভাষায়, ‘অস্ট্রেলিয়ান কন্ডিশনে সব সময় ফাস্ট বোলাররা ভালো করে। স্টার্ক অনেক দিন ধরে খেলছেন এবং ভালো করছিলেন। আমি দেখছিলাম কোন লেংথে বল করলে বোলারদের জন্য সুবিধা পাওয়া যায়।’
একই দিনে স্টার্ক ও শরীফুলের ৬ উইকেট করে নেওয়াটাও আলাদা আনন্দ দিয়েছে তাকে। স্টার্কের বোলিংয়ের প্রশংসা করে শরীফুল বলেন, ‘ওনার বোলিং আমার ভালো লাগে। দেশে আমার আদর্শ মোস্তাফিজ ভাই, তবে সুইংয়ের জন্য ওনাকেও পছন্দ করি। একই ম্যাচে উনিও ৬ উইকেট পেয়েছেন, আমিও পেয়েছি—এটি খুব ভালো লাগার বিষয়।’
প্রথম দিনেই ১৮ উইকেট পড়েছে। শেষ হয়েছে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস এবং অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসও প্রায় শেষের পথে। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখনো পুরোপুরি কোনো দলের হাতে নেই। বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় কাজ সকালে অস্ট্রেলিয়ার লিড দ্রুত কমিয়ে আনা, এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে ঘুরে দাঁড়ানো।
শরীফুলও মনে করছেন, ম্যাচ এখনো হাতছাড়া হয়নি। তার কথায়, ‘ইনশা আল্লাহ, এখনো তো খেলা শেষ হয়নি। কেবল প্রথম দিন গেল। ব্যাটিংয়ে আজ আমাদের একটি খারাপ দিন গেছে। তবে তারাও তাদের কন্ডিশনে অনেক সংগ্রাম করছে। দেখা যাক কী হয়, আমরা দ্বিতীয় ইনিংসে কতটুকু ঘুরে দাঁড়াতে পারি।’
প্রথম ইনিংসের ব্যর্থতার পর বাংলাদেশকে ম্যাচে ফিরিয়ে এনেছেন মূলত বোলাররাই। এখন সেই লড়াইটা ধরে রাখার দায়িত্ব ব্যাটসম্যানদের।
শরীফুল জানিয়েছেন, দ্বিতীয় ইনিংসে ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে দলের সবার সঙ্গে, বিশেষ করে ব্যাটসম্যানদের সঙ্গে কথা হয়েছে। বলেছেন, ‘আমরা এখনও খেলার মধ্যে আছি। ইনশা আল্লাহ, আমরা চেষ্টা করব দ্বিতীয় ইনিংসটি যাতে আমাদের পক্ষে থাকে।’


