শনিবার
২২ আগস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
২২ আগস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘৭১-এ জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় শিবিরের সভাপতি পদ ছাড়তে হয়েছে’

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২৬, ০৯:০৭ পিএম আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় ছাত্রশিবিরের সভাপতির পদ হারাতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক শিবির নেতা ও খেলাফত মজলিসের বর্তমান মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের।

শনিবার (২২ আগস্ট) এক গণমাধ্যমকে দেওয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে এ অভিযোগ করেন তিনি।

১৯৮২ সালে ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন ড. আহমদ আবদুল কাদের। সে সময় কেন ও কীভাবে সংগঠনটিতে যোগ দেন - সাক্ষাৎকারে সেসব কথা তুলে ধরেন তিনি।

আহমদ আবদুল কাদের বলেন, ইসলাম যে শ্রেষ্ঠ ধর্ম, আমি সেটা ক্লাস এইটে এসে খুব ভালোভাবে বুঝেছি। তখনই দেখেছি, একমাত্র ইসলাম ধর্মেই সবকিছু আল্লাহর জন্য নিবেদিত। তবে আমি ধর্মকর্ম করি প্রাইমারি স্কুল থেকেই। খেলাধুলার মাঝখানেও আমি নামাজ ছাড়তাম না। এর মধ্যে ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান শুরু হয়। আমি জড়িয়ে পড়ি। মিছিল-মিটিং করি। তবে কোনো দলের ব্যানারে নয়। আইয়ুব খানের পতনের পর আন্দোলন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর গ্রামে চলে যায়। সেখানেও আন্দোলন নিয়ে মিটিং-মিছিল হয়। আমি বক্তব্য রাখি।

তিনি বলেন, ওই সময় আমি কেনেথ ডব্লিউ মর্গানের একটা বই পড়ি, সেখানে পাকিস্তানের সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদির বিষয়ে আমি জানি। ক্লাস টেনের শেষে দিকে মওদুদির লেখা আল্লাহর পথে জিহাদ পড়ি—ছোট বই। দাঁড়িয়ে বইটি পড়ে ফেললাম। বইটি পড়ে মনে হলো যে, এই যদি ইসলামের আদর্শ হয়, তাহলে তার ভিত্তিতে রাজনীতি করা যেতে পারে।

আহমদ আবদুল কাদের বলেন, ১৯৭৪ সালে দাউদ হায়দার চার ধর্মের বিরুদ্ধে কবিতা লিখে। আমরা এর বিরুদ্ধে ‘আল্লাহু আকবার’ স্লোগানে হলে হলে মিছিল করি। মিছিলের পর সিদ্ধান্ত হয় পরদিন ধর্মঘট ডাকা হয়। ধর্মঘট সফল হয়নি। পরদিন বটতলায় প্রোগ্রাম করি। সেখানে বক্তৃতা রাখি। এসব কাজ এবং ধর্মঘট ব্যর্থ হওয়ায় আমার মনে হলো, এভাবে করলে হবে না, সংঘবদ্ধ হয়ে করতে হবে। এর মধ্যে ইসলামি মিশন নামে এক সংগঠনের যাত্রা শুরু হলো। আমি তাদের সাপোর্টার ছিলাম। ইসলামি আন্দোলন বিষয়ে দেশ-বিদেশের কিছু বই পড়লাম। সেসময় প্রতিদিনই খুনাখুনি হতো। বোমাবাজি হতো। তখন মনে হলো, এ ধরনের রাজনীতি করলে হবে না। আমাকে ইসলামি রাজনীতি হবে।

আহমদ আবদুল কাদের বলেন, ১৯৮০ ও ১৯৮১ সালে মাওলানা আবু তাহের ছিলেন শিবিরের সভাপতি। তিনি প্রস্তাব দিলেন, ৭১ সালে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে রিভিও বা পর্যালোচনা করা হোক। শিবিরের জানা প্রয়োজন, ৭১-এ জামায়াতের ভূমিকা কী ছিল? তারা কেন পাকিস্তানিদের সহযোগিতা করেছিল? ৭১-এ জামায়াতের ভূমিকা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে একটি কমিটি করা হয়। আমি তার একজন সদস্য ছিলাম। আমরা প্রশ্নমালা প্রস্তুত করলাম। জামায়াতের সঙ্গে বসার ব্যবস্থা করতে তাহের ভাইকে দায়িত্ব দেওয়া হলো। তার সময়ে আর এর অগ্রগতি হলো না। এরপর এনামুল হক মঞ্জু নামে একজন সভাপতি হলেন। তিনি বেশিদিন ছিলেন না।

তিনি বলেন, ১৯৮২ সালে আমার ওপর দায়িত্ব এলো। আমি তখন মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের কাছে গিয়ে ৭১-এর ভূমিকা নিয়ে জানতে চাই। আমার কথাবার্তায় তিনি রেগে গেলেন মনে হলো। তিনি বললেন, তোমরা কী করতে চাও? বললাম, তথ্য জানতে চাই। পাকিস্তান আর্মিকে সাপোর্ট দেওয়ার বিষয়ে কোথায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এটা কি জামায়াতের শুরা মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। আলবদরকে কি জামায়াত স্বীকৃতি দিয়েছে? তিনি কিছু বললেন না। একপর্যায়ে দেখি আমার বিরুদ্ধে সারা দেশে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হলো। শিবিরের সদস্যদের আমার প্রতি সভাপতি হিসেবে আস্থা নেই। ভেতরগত সমস্যা তৈরি হলো। শুরার বৈঠক ডাকা হলো। গোলাম আজম সাহেব বৈঠকে এলেন। তিনি এর সুরাহার জন্য দায়িত্ব নিলেন। তিনি একটা লিখিত প্রস্তাব আনলেন। বৈঠক ডাকা হলো। শিবিরের সাবেক নেতারাও আসলেন। তিনি পড়ে শোনালেন, আহমদ আবদুল কাদের শিবির জীবন শেষ করবে আর শাহজাহান চৌধুরী—যিনি ছিলেন অনাস্থা প্রস্তাব আনার প্রধান উদ্যোগী, তিনি শপথ ভঙ্গের কাফফারা হিসেবে তিনটি রোজা রাখবে। সবাই চুপ। মুজাহিদ নামের এক ভাই বললেন, আমি এই রায় মানি না। তখন থেকেই ছাত্রশিবির শেষ আমার।

আনুষ্ঠানিকভাবে শিবির থেকে পদত্যাগ করেননি জানিয়ে আহমদ আবদুল কাদের আরও বলেন, আমাদের সমমনা কয়েকজনকে নিয়ে যুবশিবির গঠন করি। শিবিরে থাকাবস্থায়ও আমরা যুব সংগঠন করার কথা ভাবছিলাম। কারণ, শিবির থেকে বের হয়ে সরাসরি জামায়াতে যোগ দিতে হতো।

সোর্স: এশিয়া পোস্ট

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank