রবিবার
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিন্নাহকে ইনকিলাব মঞ্চের স্মরণ, সমালোচনার ঝড়

এনপিবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৮ এএম আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৬ এএম
জিন্নাহকে ইনকিলাব মঞ্চের স্মরণ, সমালোচনার ঝড়। ছবি: সংগৃহীত
expand

পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা ও দেশটির প্রথম গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ৭৮তম মৃত্যুবার্ষিকীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়’ স্মরণ করায় সমালোচনার মুখে পড়েছে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির প্রতিষ্ঠিত সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চ।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে সংগঠনটির ফেসবুক পেজে জিন্নাহর ছবি প্রকাশ করে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর থেকেই পোস্টটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানান আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়।

ইনকিলাব মঞ্চের ওই পোস্টে জিন্নাহকে ‘উপমহাদেশের অন্যতম রাজনীতিবিদ, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রভাবশালী নেতা’ এবং পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পোস্টের ছবিতে তার জন্ম ও মৃত্যুর তারিখ উল্লেখ করা হয়—২৫ ডিসেম্বর ১৮৭৬ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর ১৯৪৮।

তবে জিন্নাহকে নিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে রয়েছে বিতর্কিত অধ্যায়। ১৯৪৮ সালের মার্চে ঢাকার রেসকোর্স ময়দান ও কার্জন হলে দেওয়া বক্তব্যে তিনি উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে অবস্থান নেন। তার এ বক্তব্যের প্রতিবাদে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্রসমাজসহ বাঙালিদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয় বলেই ইতিহাসের বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। পরবর্তী সময়ে এ ভাষানীতি ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের অন্যতম প্রেক্ষাপট তৈরি করে।

ইনকিলাব মঞ্চের পোস্টের মন্তব্য ঘরে কেউ জিন্নাহকে শ্রদ্ধা জানানোর সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন, আবার কেউ তীব্র সমালোচনা করেছেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

একজন মন্তব্য করেছেন, ‘বাঙালির ভাষা, অধিকার ও স্বাধিকারকে অবমূল্যায়নের যে রাজনৈতিক উত্তরাধিকার সেটি জিন্নাহর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই বৈষম্যমূলক মানসিকতার বিরুদ্ধেই বাঙালি ভাষা, স্বাধিকার ও স্বাধীনতার সংগ্রামে রক্ত দিয়েছে। জিন্নাহর অন্যায় নীতির সাফাই যারা আজও গায়, তারা বাঙালির ভাষা ও আত্মমর্যাদার ইতিহাসকেই অস্বীকার করে।’

অন্য একজন কমেন্ট করেন, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর মৃত্যুবার্ষিকীতে ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা—এটাই তো স্বাভাবিক! কারণ, যারা অখণ্ড পাকিস্তানের স্বপ্নকে ধারণ করে, তাদের কাছে জিন্নাহ তো শ্রদ্ধারই প্রতীক। ইতিহাসের কোন অধ্যায়কে কে নিজের আদর্শ হিসেবে বেছে নেবে, সেটাই বরং সময়ের সঙ্গে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ইতিহাসকে অস্বীকার নয়—ইতিহাস থেকেই মানুষ চিনে নিতে হয় কে কোন আদর্শের উত্তরাধিকার বহন করছে।

তবে পোস্টটি নিয়ে ওঠা আলোচনা-সমালোচনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank