সোমবার
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিরপুরে বস্তায় করে ব্যক্তিকে টেনে নেওয়ার ঘটনায় নতুন তথ্য

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৮ এএম
ছবি: সংগৃহীত
expand

রাজধানীর মিরপুরে সাদা বস্তায় করে এক ব্যক্তিকে টেনে নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর অপহরণের অভিযোগ নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধান ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় ওই ব্যক্তিকে জোর করে তুলে নেওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সাদা বস্তায় করে একজনকে নিয়ে যাওয়ার যে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে; সেটি নিয়ে আমরা অনুসন্ধান করেছি। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে অপহরণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। বিষয়টি আরও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

পুলিশ জানায়, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তির নাম নজরুল ইসলাম (৫০)। তিনি টাঙ্গাইলের মধুপুর থানার মো. শুকুর আলীর ছেলে। বর্তমানে পল্লবী ১১ নম্বর এলাকায় দি স্যালভেশন আর্মির যক্ষ্মা ও কুষ্ঠ ক্লিনিকে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করেন। প্রায় ১৫ থেকে ১৬ বছর ধরে ওই প্রতিষ্ঠানে নাইট গার্ডের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। তার মাসিক বেতন ১৭ হাজার টাকা।

পুলিশের অনুসন্ধান ও নজরুলের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে আরও জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরুল ইসলামকে প্রকল্প ব্যবস্থাপক হিসেবে দাবি করা হলেও তিনি কোনো প্রকল্প ব্যবস্থাপক নন। তিনি প্রতিষ্ঠানটির একজন নিরাপত্তাকর্মী। রাতে গেটের পাশে থাকা ছোট একটি টেবিলে বসেই দায়িত্ব পালন করেন এবং সেখানেই ঘুমান।

গত ১০ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে তিনি নাইট গার্ডের দায়িত্বে যোগ দেন। পরদিন সকাল ৬টার দিকে বদলি গার্ড দানিয়েল সরকার এসে তাকে না পেয়ে বিষয়টি প্রকল্প ব্যবস্থাপক বোস এলভিন অথিকে জানান। পরে প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়।

ওই ফুটেজে দেখা যায়, ১১ সেপ্টেম্বর ভোর ৪টা ৪৭ মিনিটের দিকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি সাদা প্লাস্টিকের বস্তায় করে নজরুলকে প্রতিষ্ঠানের গেটের সামনে এনে রাখেন। পরে ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটের দিকে নজরুল নিজেই বস্তা থেকে বের হয়ে আসেন। কিছুক্ষণ পর তাকে গেটের সামনে বসে থাকতে দেখা যায়। পরে ওই অজ্ঞাত ব্যক্তির সঙ্গে রিকশায় করে সেখান থেকে চলে যান তিনি।

ডিসি মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজে তাকে বস্তা থেকে বের হয়ে আসতে দেখা গেছে। এরপর তিনি গেটের সামনে বসেন এবং পরে রিকশায় করে চলে যান। ফুটেজে কোনো ধরনের জোরজবরদস্তির বিষয় দেখা যায়নি।’

এদিকে প্রাথমিক অনুসন্ধানে নজরুলের ছেলে মো. মেরাজ (২৬) পুলিশকে জানিয়েছেন, কিছুদিন আগে তার বাবা ব্যাংক থেকে তিন লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন। তার দুই স্ত্রী গ্রামের বাড়িতে থাকেন। পারিবারিক কোনো কারণে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে নজরুল আত্মগোপন করে থাকতে পারেন বলেও পুলিশকে জানানো হয়েছে।

তবে কী কারণে নজরুলকে বস্তায় করে ক্লিনিকের সামনে আনা হয়েছিল এবং পরে তিনি কোথায় গেছেন- এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank