শনিবার
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডে ‘হোয়াইটওয়াশ’ পাকিস্তান

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ আগেই হেরেছিল পাকিস্তান। তবে শেষ ম্যাচে ‘মান রক্ষার’ শেষ সুযোগটি কাজে লাগাতে চেয়েছিল দলটি। রাজা-আব্বাসের ব্যাটে লড়াইটাও জমেছি বেশ। তবে শেষ পর্যন্ত হারতেই হলো পাকিস্তানকে। বার্মিংহামের এজবাস্টনে তৃতীয় টেস্টে পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড। নিজেদের মাটিতে টেস্ট সিরিজে এই প্রথম পাকিস্তানকে ধবলধোলাই করার কীর্তি গড়ল তারা।

চতুর্থ দিনের সকালে ১৩০ রানের সহজ লক্ষ্য সামনে রেখে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে ইংল্যান্ড। তবে ছোট লক্ষ্যও শুরুতে তাদের জন্য কঠিন হয়ে ওঠে। প্রথম ওভারেই পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আব্বাসের শিকার হন বেন ডাকেট। একই ওভারে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়ে আরেক উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। ফলে মাত্র ২ রানেই দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা।

নতুন বলে পাকিস্তানি বোলারদের সুইং ও সিম মুভমেন্ট তখন ইংল্যান্ডের ব্যাটারদের কঠিন পরীক্ষায় ফেলছিল। সেই পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরেন জো রুট ও জর্ডান কক্স। শুরুতে উইকেট বাঁচিয়ে খেললেও পরে ধীরে ধীরে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন দুজন। পাকিস্তানি বোলাররা চাপ ধরে রাখলেও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে উইকেট তুলে নিতে ব্যর্থ হন।

রুট অবশ্য ব্যক্তিগতভাবে বেশ কয়েকবার বেঁচে যান। মোহাম্মদ আলীর বলে তিনি বোল্ড হলেও সেটি নো-বল হওয়ায় উইকেটটি পাননি পাকিস্তানি পেসার। পরে আব্বাসের বলে স্লিপে ক্যাচের সুযোগ তৈরি হলেও বল ফিল্ডারদের ফাঁক গলে বেরিয়ে যায়।

জীবন পাওয়া রুট এরপর আর পেছনে তাকাননি। তুলে নেন অর্ধশতক। অন্য প্রান্তে কক্সও একইভাবে ফিফটি পূর্ণ করেন। দুজনের শতরানের জুটি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ইংল্যান্ডের হাতে এনে দেয়।

শেষ পর্যন্ত রুট ৬২ রানে অপরাজিত থাকেন, আর কক্স অপরাজিত থাকেন ৫৯ রানে। ২৪.২ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে প্রয়োজনীয় ১৩০ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড।

তবে ম্যাচের প্রথম ইনিংসে পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ব্যাটিং বিপর্যয়ে মাত্র ১৩৩ রানে অলআউট হয়ে যায় পাকিস্তান। জবাবে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪৫৩ রান। ফলে প্রথম ইনিংসেই বিশাল ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে সফরকারীরা।

দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে পাকিস্তান। ৪৪৯ রান করে তারা ম্যাচে নতুন করে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনে। সেই ইনিংসে পাকিস্তানের তরুণ ব্যাটার রাজাউল্লাহর দুর্দান্ত ব্যাটিং দলকে লড়াইয়ে ফেরানোর পথ তৈরি করে। বড় লিড নেওয়ার সুযোগ না থাকলেও ইংল্যান্ডের সামনে ১৩০ রানের লক্ষ্য দিয়ে ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরির চেষ্টা করেছিল পাকিস্তান।

চতুর্থ দিনের শুরুতে আব্বাসের দ্রুত দুই উইকেট সেই আশাকে আরও জোরালো করে। কিন্তু রুট ও কক্সের অবিচ্ছিন্ন জুটি শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রতিরোধ গুঁড়িয়ে দেয়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank