

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচ পরিবেশন করতে এসে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন কিশোরীসহ দুই নারী নৃত্যশিল্পী। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সরাইল থানা পুলিশ এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া গণমাধ্যমকে বলেন, একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশ কাজ করছে।
ঘটনাটি ঘটে গত ১০ সেপ্টেম্বর বিকেল চারটা থেকে সন্ধ্যার মধ্যে সরাইল উপজেলার শাহাবাজপুর এলাকার তিতাস নদীতে।
ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে গত ১১ সেপ্টেম্বর রাতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সরাইল থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। মামলায় মো. রাকিব মিয়া নামের এক যুবককে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী দুই নারী কুমিল্লার চান্দিনা এলাকার বাসিন্দা। তারা পেশাগত চুক্তিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে নৃত্য পরিবেশন করে থাকেন। তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পেজ থেকে যোগাযোগ নম্বর নিয়ে সরাইলের শাহাবাজপুর এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের কথা বলে রাকিব নামের এক যুবক তাদের সঙ্গে চুক্তি করেন।
চুক্তি অনুযায়ী, গত ১০ সেপ্টেম্বর বিকেলে নয় হাজার টাকা পারিশ্রমিকে ওই দুই নারী সরাইল বিশ্বরোড এলাকায় পৌঁছান। সেখান থেকে রাকিব ও তার সঙ্গীরা তাদের একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে শাহাবাজপুরের একটি সেতুর নিচে নিয়ে যায়। পরে বিয়ের অনুষ্ঠানে দ্রুত নিয়ে যাওয়ার কথা বলে তাদের একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় তোলা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নৌকাটি তিতাস নদীর মাঝপথে পৌঁছালে চালক ইঞ্জিন বন্ধ করে দেয়। এরপর নৌকার ছাউনির ভেতরে নিয়ে আসামিরা দুই নারীকে পর্যায়ক্রমে একাধিকবার ধর্ষণ করে। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা এক পুরুষ সদস্য বাধা দিতে গেলে আসামিরা ধারালো অস্ত্র উঁচিয়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। বিকেল সাড়ে পাঁচটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত তিতাস নদীর মাঝখানে নৌকার ভেতরে এই পাশবিক নির্যাতন চালানো হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে রাত আনুমানিক আটটার দিকে আসামিরা ভুক্তভোগীদের নাসিরনগর উপজেলার কুণ্ডা তিতাস নদীসংলগ্ন ভুঁইয়া ঘাট এলাকায় নামিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। এরপর ভুক্তভোগীরা প্রথমে নাসিরনগর থানায় আইনি সহযোগিতা পেতে যায়। ঘটনাস্থল সরাইল থানা এলাকায় হওয়ায় পুলিশ তাদের সরাইল থানায় মামলা করার পরামর্শ দেয়।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল ইসলাম জানান, অপরাধের ঘটনাস্থল সরাইল থানাধীন হওয়ায় ভুক্তভোগীদের সরাইল থানায় গিয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, গণধর্ষণের ঘটনায় সরাইল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত ও বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের স্বার্থে আপাতত গ্রেপ্তারকৃতের পরিচয় গোপন রাখা হচ্ছে।



