

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মক্কানগরীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত পবিত্র কাবা শরীফ শুধু একটি স্থাপনা নয়, বরং এটি সারা বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের হৃদস্পন্দন।
এই মহিমান্বিত ঘরের পবিত্রতা ও আধ্যাত্মিকতা বজায় রাখতে প্রতি বছর অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে একটি বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়, যা ইতিহাসে ‘গোসল-এ-কাবা’ নামে পরিচিত।
পবিত্র কাবা ঘর ধোয়ার এই ঐতিহ্যবাহী ও মর্যাদাপূর্ণ কাজে জমজম কূপের বরকতময় পানি এবং বিশেষ ৮টি উপকরণ ব্যবহার করা হয়। কাবার দেয়াল পরিষ্কার ও মোছার উপকরণ
১. বিশেষ বাটি (মিশ্রণ তৈরির জন্য):
জমজম পানি এবং খাঁটি গোলাপ জল একত্রে মেশানোর জন্য এই বিশেষ বাটিটি ব্যবহার করা হয়। অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এই পবিত্র মিশ্রণটি তৈরি করা হয়।
ছবি সংগৃহীত
২. পানি সংরক্ষণের বড় গ্যালন:
পরিচ্ছন্নতার কাজ যেন কোনো বাধা ছাড়াই একটানা শেষ করা যায়, সেজন্য এই বড় আধারে প্রচুর পরিমাণে জমজম পানি ও গোলাপ জলের মিশ্রণ আগে থেকেই মজুত রাখা হয়।
৩. কাপড় ভেজানোর বিশেষ পাত্র:
কাবার দেয়ালগুলো মোছার কাপড়টি নিখুঁতভাবে ভেজানোর জন্য এই নির্দিষ্ট পাত্রটি ব্যবহার করা হয়, যা কাজের পবিত্রতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখে।
৪. দেয়াল মোছার নরম কাপড়:
কাবার ভেতরের দেয়ালগুলো অত্যন্ত যত্ন সহকারে মোছার জন্য এই সুক্ষ্ম ও নরম কাপড়গুলো ব্যবহার করা হয়। পবিত্র এই স্পর্শের কারণে কাপড়গুলো অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে সংরক্ষণ করা হয়।
সুগন্ধি ছড়ানো ও আধ্যাত্মিক আবহ তৈরির উপকরণ
৫. ছিটানোর বিশেষ জগ:
কাবার দেয়াল ও মেঝেতে জমজম ও গোলাপ জলের পবিত্র মিশ্রণটি ছিটানোর জন্য আকর্ষণীয় নকশার এই জগটি ব্যবহার করা হয়।
৬. খাঁটি গোলাপ জল:
কাবার ভেতরের পরিবেশকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাণবন্ত ও সুবাসিত করে তুলতে সরাসরি গোলাপ জল ব্যবহার করা হয়, যা সেখানে এক জাদুকরী ও আধ্যাত্মিক আবহ তৈরি করে।
৭. কাবার বিশেষ সুগন্ধি (মশলা):
পানি দিয়ে ধোয়ার পর কাবার জন্য বিশেষভাবে তৈরি কিছু রাজকীয় সুগন্ধি বা আতর ব্যবহার করা হয়।
এই সুমিষ্ট সুবাস চারপাশের পরিবেশকে এক মায়াবী রূপ দেয়।
ছবি সংগৃহীত
৮. তামার তৈরি ধূপদানি:
কাবার ভেতরে পবিত্র ধোঁয়া ছড়ানোর জন্য এই ঐতিহ্যবাহী ধূপদানিটি ব্যবহার করা হয়। এর থেকে বের হওয়া সুগন্ধি ধোঁয়া দর্শনার্থী ও খাদেমদের মনে এক গভীর প্রশান্তি এনে দেয়।
‘গোসল-এ-কাবা’ কেবল একটি সাধারণ পরিচ্ছন্নতা অভিযান নয়; বরং এই প্রতিটি উপকরণ এবং পুরো ধোয়ার প্রক্রিয়াটি কাবার প্রতি মুসলিম উম্মাহর গভীর ভালোবাসা, ভক্তি ও শ্রদ্ধার এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ।
