

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রিজিক বৃদ্ধি ও জীবনে বরকত লাভের আশায় অনেকেই বিভিন্ন সূরা ও আমল অনুসরণ করেন। তবে ইসলামি শরিয়তে কোনো আমলের বিশেষ ফজিলত দাবি করতে হলে তার পক্ষে কোরআন ও সহিহ হাদিসের দলিল থাকা জরুরি।
কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইস্তিগফারের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দিয়ে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের জন্য বাগান ও নদ-নদী সৃষ্টি করবেন।’ (সূরা নূহ: ১০-১২)
এ ছাড়া আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে (তাকওয়া অবলম্বন করে), তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ বের করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।’ (সূরা তালাক: ২-৩)
হাদিসেও রিজিকে বরকতের জন্য কিছু আমলের প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি চায় তার রিজিক বৃদ্ধি পাক এবং আয়ুতে বরকত আসুক, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৯৮৬; সহিহ মুসলিম)
দান-সদকার ব্যাপারেও ইসলামে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সদকা সম্পদ কমায় না।’ (সহিহ মুসলিম)
অন্যদিকে, মাগরিবের নামাজের পর ২১ বার সূরা কাওসার পাঠ করলে রিজিক বৃদ্ধি পায়—এমন দাবির পক্ষে সহিহ হাদিসে নির্ভরযোগ্য কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না। আলেমরা বলছেন, সূরা কাওসার তিলাওয়াত অবশ্যই সওয়াবের কাজ, তবে নির্দিষ্ট সংখ্যা ও নির্দিষ্ট ফলাফলের দাবি করতে হলে সহিহ দলিল প্রয়োজন।
ইসলামি বিশেষজ্ঞদের মতে, রিজিকে বরকত লাভের জন্য নিয়মিত ইস্তিগফার, তাকওয়া, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা, দান-সদকা, হালাল উপার্জন এবং আল্লাহর কাছে আন্তরিক দোয়ার বিকল্প নেই।
