মঙ্গলবার
১১ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
১১ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হোটেল কক্ষে রক্তাক্ত স্ত্রী-কন্যা, পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১০ পিএম আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১১ পিএম
আহত তাহমিনাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়, ইনসেটে নিহত আমিনুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
expand
আহত তাহমিনাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়, ইনসেটে নিহত আমিনুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে এক পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সময়ে ওই কক্ষের দরজার পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়েছিল স্ত্রী ও ১০ মাস বয়সী কন্যা শিশু।

সোমবার (১০ আগস্ট) উপজেলার বড়তাকিয়া বাজারের হোটেল রিলেক্স জোনের ১০৪ নাম্বার কক্ষ থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।

নিহত আমিনুল ইসলাম (৩২) উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের আব্দুল হক মাস্টার বাড়ির আবুল হোসেনের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ পুলিশের রাঙ্গামাটি পুলিশ লাইনের এএসআই পদে কর্মরত ছিলেন। স্ত্রী তাহমিনা আক্তার (২৪) উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ হাজীশ্বরাই এলাকার মো. ইব্রাহীমের মেয়ে।

হোটেল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার (০৯ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে আমিনুল ইসলাম ব্যবসায়ী পরিচয়ে ১০৪ নম্বর কক্ষটি ভাড়া নেন। সঙ্গে তার স্ত্রী-সন্তানও ছিলেন। এদিন বিকেল, সন্ধ্যা এবং সর্বশেষ রাত ৯টার দিকে স্বামী আমিনুল ইসলাম বের হলেও স্ত্রী তাহমিনা আক্তার ও তাদের কন্যা শিশুকে বের হতে দেখা যায়নি।

তারা আরও জানায়, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হোটেলকর্মীরা কক্ষটি পরিষ্কার করার জন্য দরজায় গিয়ে একাধিকবার ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। এসময় আবাসিকের দায়িত্বরত ম্যানেজারও তাদের ডাকেন। একপর্যায়ে ভেতরে থাকা আমিনুল ইসলামের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার রক্তাক্ত অবস্থায় দরজা খুলে দেন।

হোটেলকর্মীরা কক্ষের ভেতরে খাটের পাশে ফ্যানের সঙ্গে আমিনুল ইসলামকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে মিরসরাই থানা পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে পুলিশ এসে আমিনুলের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে এবং তার আহত স্ত্রীকে হাসপতালে পাঠায়।

হোটেলের দায়িত্বরত ম্যানেজার মো. সোহান বলেন, ‘স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে রোববার দুপুরে হোটেলের একটি রুম ভাড়া নেন আমিনুল ইসলাম ও তাহমিনা আক্তার। তাদের সঙ্গে ১০ মাস বয়সী একটি কন্যা শিশুও ছিল। তবে তাদের সঙ্গে অন্য কাউকে দেখা যায়নি। কক্ষটি ভাড়া নেওয়ার পর খাবারের জন্য আমিনুলকে বাহিরে যেতে দেখা গেলেও স্ত্রী তাহমিনাকে দেখা যায়নি।’

আহত তাহমিনা আক্তারের মা আমেনা বেগম বলেন, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পারিবারিকভাবে আমিনুল ইসলামের সঙ্গে তাহমিনার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে স্বামী ভরণপোষণ দিত না। আমার মেয়ে যখন সন্তানসম্ভবা তখন আমিনুল বলে এখন তার সেবা-যত্ন করার জন্য একজন দরকার। তাই আপাতত আমাকে এখানে রেখে দেয়। রোববার সকালে মেয়ে ফাতিহার জন্মসনদের কথা বলে খৈয়াছড়া ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসেন। বিকেলে মেয়ে আমাকে মোবাইলে বলে আমিনুল তাদের জন্য বাসা নিয়েছে সোমবার সকালে সেখানে চলে যাব।

তিনি আরও বলেন, ‘সকালে খবর পাই আমার মেয়ে তাহমিনা রক্তাক্ত অবস্থায় হোটেলে পড়েছিল এবং তার স্বামী আমিনুলের মরদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিল। পাশে ১০ মাস বয়সী শিশু ফাতিহা পড়ে ছিল।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (মিরসরাই সার্কেল) নাদিম হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আমিনুল ইসলাম নামে এক পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে। এছাড়া তার স্ত্রীকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। তাদের সঙ্গে থাকা ১০ মাস বয়সী কন্যা শিশুটি সুস্থ ও স্বাভাবিক আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন