

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজি, হামলা ও কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা হাজী মো. নজরুল ইসলাম এবং তার সহযোগী বিশ্বজিৎ মণ্ডলকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১০ আগস্ট) সাতক্ষীরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইদুর রহমানের আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন তারা। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী পবিত্র কুমার জানান, আদালতে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) সিরাজুল ইসলাম, আইনজীবী শেখ আবদুল খালেক ও নির্মল জোয়াদ্দার শুনানিতে অংশ নেন। তারা আদালতে বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্পের কাজে চাঁদা দাবি, হামলা এবং নির্মাণকাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তারা জামিনে মুক্ত থাকলে প্রকল্পের কাজ ফের বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন আবু বক্কর ও সৈয়দ ইফতেখার আলী। এর আগে উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের জামিন পেয়েছিলেন নজরুল ইসলাম ও বিশ্বজিৎ মণ্ডল। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় সোমবার তারা নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে পুনরায় জামিন আবেদন করেন। আদালত আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে আদালত চত্বরে নজরুল ইসলামের ছবি তুলতে গেলে সাংবাদিকদের ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ফেলে দিয়ে তার ছোট ছেলে সাইফুল ইসলাম মারমুখী আচরণ করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ মে রাতে শ্যামনগর থানায় মামলাটি করেন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান আর-রাদ করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ ও শুরা সদস্য হাজী মো. নজরুল ইসলামকে। তার ছেলে আব্দুর রহমান, স্থানীয় বিশ্বজিৎ মণ্ডলসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে মামলায় আসামি করা হয়।
এজাহারে বলা হয়েছে, শ্যামনগরের পূর্ব দুর্গাবাটি এলাকায় জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে ডিএল-উন্নয়ন (জেভি) ও ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডের পক্ষে আর-রাদ করপোরেশন। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, গত বছরের আগস্ট থেকে তাদের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন আসামিরা এবং চাঁদা না দিলে কাজ বন্ধ করে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, চাঁদা না দেওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল থেকে প্রকল্পের কাজ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১৯ মে রাতে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে হাজী নজরুল ইসলাম ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। একই সঙ্গে কাজ চালিয়ে গেলে প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর ২৩ মে দুপুরে হাজী নজরুল ইসলাম, তার ছেলে আব্দুর রহমানসহ কয়েকজন প্রকল্প এলাকায় গিয়ে প্রকৌশলী জাহিদ হাসানকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে কিউরিং ম্যান ফেরদৌসকেও মারধর করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় প্রকৌশলী জাহিদের একটি অ্যাপল স্মার্টওয়াচ ও মানিব্যাগ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়।
বাদীপক্ষের দাবি, প্রকল্প এলাকায় থাকা সিসিটিভি ক্যামেরায় ঘটনার দৃশ্য ধারণ হয়েছে। হামলায় আহত জাহিদ হাসান ও ফেরদৌসকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
তবে মামলার শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন হাজী মো. নজরুল ইসলাম। তার দাবি, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। হামলার অভিযোগের সময় তিনি ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, উপকূলীয় এলাকায় বর্ষার আগে বাঁধ নির্মাণকাজ শেষ করা না গেলে বিস্তীর্ণ এলাকা ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। তাই প্রকল্পের কাজ দ্রুত ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।