

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জুলাই-আগস্টে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় তৎকালীন ডিবি প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ফোনকলের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
রোববার (০৯ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-কে এ তথ্য জানান প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন।
ওই ফোনকলের তথ্য মতে, সমন্বয়কদের ডিবি কার্যালয়ে খাওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তৎকালীন সাবেক ডিবি প্রধান হারুনের ওপর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরক্ত হওয়া নিয়ে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে কথোপকথন হয়।
ওই কথোপকথনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে নিজের বদলি ঠেকানোর অনুরোধ করে হারুন বলেছিলেন, ‘স্যার, এটা (তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলা) যদি অহন স্যার না করেন, তাহলে কিন্তু অর্ডার এহন করে দেবে স্যার। আমি নাই স্যার। ডিবিতে নাই স্যার। অর্ডার করে দেবে।’
ওই ঘটনার পর ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই হারুনকে ডিবি থেকে বদলি করে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনারের (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) দায়িত্ব দেওয়া হয়।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে করা মামলায় তৃতীয় দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার।
এ সময় তিনি গণ-অভ্যুত্থানে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে অন্যদের ফোনে কথা বলার কথোপকথন তুলে ধরেন।
এর মধ্যে ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই ওবায়দুল কাদের ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের মধ্যে ফোনে একটি কথোপকথন হয়।
ওই ফোনকলে কাদের বলেন, ‘হারুনকে কি সরায়ে দিচ্ছেন?’ জবাবে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘উনি (শেখ হাসিনা) তো খুব অ্যাডামেন্ট (অনমনীয়)। আমরা সরাই নাই। উনি বলছিলেন অন্যখানে দিতে। আমি ডিএমপিতেই রেখে দিছি। মানে ড্রেসটা পরিবর্তন করে দিচ্ছি।’ একপর্যায়ে আসাদুজ্জামান বলেন, আপনি একটু বলেন, বলতে বলতে আমি টায়ার্ড হয়ে গেছি। আপনি একটু না বললে আমি আর সাহস পাচ্ছি না। পরে কাদের বলেন, একটু ওয়েট করেন। একটু পর আসাদুজ্জামান বলেন, সব ‘ডিমোরালাইজড’ হয়ে যাবে। তখন কাদের বলেন, এটা আপনি নেত্রীকে বলে দেবেন।
এ সময় আইজিপির (তৎকালীন পুলিশের মহাপরিদর্শক) সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন কাদের।