

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে এক ফল ব্যবসায়ীর মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাসেল মিয়ার বিরুদ্ধে। প্রথমে ফোন নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে সিসিটিভি ফুটেজের কথা জানানো হলে ওই ব্যবসায়ীকে ১৫ হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করেন তিনি।
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আজমিরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকবর হোসেন। এসআই রাসেলকে থানা থেকে প্রত্যাহারের সুপারিশ করে পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছেন তিনি।
ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার রাতে আজমিরীগঞ্জ বাজারের রাজিব আহমেদের ফলের দোকানে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত ৮টা ৪৯ মিনিটে ফলের দোকানটিতে প্রবেশ করেন এসআই রাসেল। তিনি দোকান থেকে পেয়ারা ও লটকন কেনেন। এ সময় দোকানের টেবিলের ওপর রাখা ছিল ব্যবসায়ী রাজিবের কালো রঙের স্মার্টফোন।
ফুটেজ অনুযায়ী, দোকানে তখন তেমন ভিড় ছিল না। অল্প পরিমাণ ফল কেনার পরও প্রায় পাঁচ মিনিট সেখানে অবস্থান করেন এসআই রাসেল। একপর্যায়ে দোকানি ফলের ব্যাগ প্রস্তুত করে রাখলেও তিনি দাঁড়িয়ে রাজিবের সঙ্গে কথা বলতে থাকেন।
এ সময় হাতে থাকা একটি ফাইল ও নিজের লাল রঙের মোবাইল ফোনটি টেবিলে রাখা দোকানির ফোনের ওপর রাখেন তিনি। পরে কথোপকথনের একপর্যায়ে দুটি ফোনই নিজের পকেটে ঢুকিয়ে নেন বলে ফুটেজে দেখা যায়।
এরপর ফলের ব্যাগ হাতে নিয়ে আরও প্রায় এক মিনিট দোকানির সঙ্গে কথা বলেন এসআই রাসেল। পরে দোকান থেকে বেরিয়ে যান তিনি।
কিছুক্ষণ পর নিজের মোবাইল ফোন খুঁজে না পেয়ে দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেন রাজিব। সেখানে এসআই রাসেলকে ফোনটি নিয়ে যেতে দেখা যায়। এরপর তিনি এসআই রাসেলের কাছে ফোনটি ফেরত চান।
তবে ব্যবসায়ীর অভিযোগ, প্রথমে ফোন নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন এসআই রাসেল। পরে সিসিটিভি ফুটেজে ফোন নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য রয়েছে জানানো হলে গভীর রাতে ফোনটি ফেরত না দিয়ে রাজিবকে ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এসআই রাসেল ইচ্ছাকৃতভাবেই মোবাইল ফোনটি নিয়ে গেছেন। তবে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর তিনি ভুলবশত ফোনটি নিয়ে গেছেন বলে দাবি করেন এবং ১৫ হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করেন।
ব্যবসায়ী রাজিবের বলেছেন, ‘রাতেই বিষয়টির সমাধান হয়েছে। এসআই রাসেল ফোনটি নিয়ে হারিয়ে ফেলেছেন জানিয়ে তাকে ১৫ হাজার টাকা দিয়েছেন।’
পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজে এসআই রাসেলের গতিবিধি দেখে তাদের মনে হয়েছে, তিনি পরিকল্পিতভাবেই দোকানে সময় কাটিয়েছেন এবং ফোনটি নিয়েছেন। প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে ফুটেজের বিষয়টি জানাজানি হলে ভুল করে ফোনটি নিয়ে যাওয়ার দাবি করেছেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে এসআই রাসেল মিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
আজমিরীগঞ্জ থানার ওসি আকবর হোসেন জানিয়েছেন, তিনি সিসিটিভি ফুটেজ দেখেছেন। এ ঘটনায় রাসেলকে থানায় রাখা হবে না। ব্যবসায়ীর পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ না থাকলেও এবং রাসেল ১৫ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তাকে প্রত্যাহার করা হতে পারে বলেও জানান ওসি।