

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাংলাদেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী জেমসের ইতালি সফর ও কনসার্ট আয়োজনকে ঘিরে তার ম্যানেজার রবিনের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান হোসাইন আহমেদ মোয়াজ। অভিযোগের পর রোমের একটি হোটেলে ইতালিয়ান পুলিশ উপস্থিত হয়ে বিষয়টি শুনেছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
হোসাইন আহমেদ মোয়াজের দাবি, জেমসের ম্যানেজার রবিন তাকে ফোন করে ইতালিতে জেমসের কনসার্ট আয়োজনের প্রস্তাব দেন। মোয়াজ জানান, জেমসের কনসার্ট আয়োজনের মতো পর্যাপ্ত অর্থ তার হাতে নেই বলে জানালে রবিন তাকে আশ্বস্ত করেন- তিনি আয়োজন শুরু করতে পারেন, পরবর্তী অর্থের বিষয়টি ম্যানেজার নিজেই দেখবেন।
এরপর মোয়াজ রোমের পাশাপাশি ভেনিসেও কনসার্ট আয়োজনের উদ্যোগ নেন। তার দাবি, ইতালির প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ভেন্যুগুলোতে অগ্রিম অর্থ দিয়ে চুক্তি করে নির্ধারিত তারিখ বুক করা হয়। জেমসের ম্যানেজার রবিনের সঙ্গেও ৫ হাজার ইউরো অগ্রিম দেওয়ার বিষয়ে চুক্তি হয় বলে জানান তিনি। রোমে ১৬ আগস্ট এবং ভেনিসে ২২ আগস্ট কনসার্টের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
মোয়াজের ভাষ্য, এরপর টেলিভিশন, বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়। পাশাপাশি রোম ও ভেনিসের কনসার্টের টিকিট বিক্রিও শুরু হয়।
তবে রোমের কনসার্টের প্রায় এক সপ্তাহ আগে পরিস্থিতি পাল্টে যায় বলে অভিযোগ করেন মোয়াজ। তার দাবি, রবিন তাকে ভেনিসের অনুষ্ঠান ছেড়ে দিতে বলেন। একই সঙ্গে অন্য একটি পক্ষের সঙ্গে বেশি অর্থের বিনিময়ে যোগাযোগ করে অনুষ্ঠানটি তাদের দিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে আপত্তি জানালে তাকে রোমের অনুষ্ঠানও করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মোয়াজ বলেন, দুইটি ভেন্যুর জন্য তার বিপুল অর্থ আটকে যাওয়ায় তিনি চাপের মধ্যে পড়ে যান। শেষ পর্যন্ত রবিনের কথামতো ভেনিসের অনুষ্ঠান অন্য পক্ষকে ছেড়ে দেন। তবে ইতোমধ্যে বিক্রি হওয়া টিকিটের অর্থ আয়োজক কমিটিকে বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি তার।
অভিযোগের সবচেয়ে গুরুতর অংশটি রোমের ১৬ আগস্টের কনসার্টকে ঘিরে। মোয়াজের দাবি, কনসার্টের দিন জেমসের ম্যানেজার নিজে টিকিট কাউন্টারে বসে টিকিট বিক্রির পুরো অর্থ নিয়ে নেন।
এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে তাকে বলা হয়, তিনি বিষয়টি নিয়ে কথা বললে জেমসকে মঞ্চে উঠতে দেওয়া হবে না। ফলে একপ্রকার চাপের মুখে তিনি পরিস্থিতি মেনে নিতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ করেন মোয়াজ।
কনসার্ট শেষ হওয়ার পর ১৮ আগস্ট ম্যানেজারের কাছে আয়-ব্যয়ের হিসাব চাইলে তিনি হিসাব দিতে অস্বীকৃতি জানান বলেও অভিযোগ করেন আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান।
এরপর বিষয়টি নিয়ে মোয়াজ ইতালিয়ান পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তার দাবি, পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তার বক্তব্য ও অভিযোগ শোনে এবং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পরামর্শ দেয়।
আজ সকালে মোয়াজকে হোটেল থেকে জানানো হয় ,জেমস সহ পুরো টিম সকালে না বলে চলে যায় ,তারপর মোয়াজ সকালে হোটেলে গিয়ে তিনি দেখতে পান—জেমস, তার ম্যানেজারসহ পুরো টিম কাউকে কিছু না জানিয়েই হোটেল ছেড়ে চলে গেছে।
এ সময় মোয়াজ পুলিশের কাছে আরও একটি অভিযোগ তুলে ধরেন। তার দাবি, জেমসের কনসার্টের অর্থের একটি অংশ অবৈধ পথে হুন্ডির মাধ্যমে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ টাকা। তবে এই অভিযোগের পক্ষে কোনো নথি বা প্রমাণ প্রকাশ্যে এসেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মোয়াজের দাবি, বিষয়টি নিয়ে তিনি সরাসরি জেমসের সঙ্গে কথা বলতে গেলে জেমস তাকে জানান, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না এবং ম্যানেজার রবিনের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।
তবে জেমসের ওই সময়ের শারীরিক বা মানসিক অবস্থার বিষয়ে মোয়াজের করা মন্তব্যের স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই এ অংশটিও অভিযোগকারীর বক্তব্য হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
আয়োজক হোসাইন আহমেদ মোয়াজ আরও দাবি করেন, পর্তুগালেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে জেমসের সঙ্গে কনসার্ট আয়োজনের জন্য যে চুক্তি করা হয়েছিল, সেটিও জেমসের পক্ষ থেকে যথাযথভাবে পালন করা হয়নি।
তবে পর্তুগালের ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য, চুক্তির শর্ত কিংবা সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এখনো প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।
জেমসের ম্যানেজার রবিনের বক্তব্য এখনো জানা যায়নি। একইভাবে জেমসের পক্ষ থেকেও অভিযোগগুলোর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


