

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে গত ৩১ মার্চ ২০২৬ এক জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ দূতাবাস, সিউল। সিউলের একটি স্থানীয় হোটেলে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে দুই দেশের কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের উজ্জ্বল দিকগুলো উঠে আসে।
অনুষ্ঠানে ২৫০ জনেরও বেশি অতিথি অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, মিশন প্রধান, কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য মন্ত্রণালয় এবং সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা, কোরিয়ান বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট সদস্যরা।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাবলিক ডিপ্লোমেসি বিষয়ক উপমন্ত্রী হিজ এক্সেলেন্সি মি. লিম সাং উ।
সংবর্ধনায় বক্তব্য প্রদানকালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তৌফিক ইসলাম শাতিল ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ৩০ লাখ বীর শহীদ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, গত পঞ্চাশ বছরে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন, বস্ত্রশিল্প, ইলেকট্রনিকস, অটোমোবাইল শিল্প এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগসহ বিভিন্ন খাতে গভীর ও ধারাবাহিক সহযোগিতা গড়ে উঠেছে।
রাষ্ট্রদূত আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে বাংলাদেশ দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণে আগ্রহী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের নবনির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমন্বয়ে দেশকে উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে নিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। একই সঙ্গে সামাজিক সম্প্রীতি, আইনের শাসন, সুশাসন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতেও সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অন্যদিকে, কোরিয়ার উপমন্ত্রী লিম সাং উ নবনির্বাচিত বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করার এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আস্থার ভিত্তিতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে বিদ্যমান বহুমাত্রিক সহযোগিতার বর্তমান অবস্থায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের মধ্যে কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (CEPA) দ্রুত স্বাক্ষরিত হবে, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে মুক্ত বাণিজ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে সেবা, বিনিয়োগ ও শিল্প সহযোগিতার নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে বাংলাদেশি ও কোরিয়ান শিল্পীদের অংশগ্রহণে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এতে দেশাত্মবোধক কবিতা আবৃত্তি, গান ও নৃত্য পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। পরে অতিথিদের জন্য পরিবেশন করা হয় বাংলাদেশি ও কোরিয়ান ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন সুস্বাদু খাবার।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের এক উজ্জ্বল নিদর্শন হয়ে উঠেছে।
মন্তব্য করুন