বুধবার
০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বুধবার
০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ডিএফপিতে সমন্বয়কের নাম ভাঙিয়ে মব সৃষ্টির অভিযোগ

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩৮ পিএম আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৩ পিএম
মো. আতিকুর রহমান
expand
মো. আতিকুর রহমান

রাজধানী ঢাকায় সার্কিট হাউস রোডস্থ ডিএফপির কার্যালয়ে এনসিপির নাম ভাঙিয়ে মব সৃষ্টির অভিযোগ এনে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন কার্যালয়ে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীদের পক্ষে মো. আতিকুর রহমান এই অভিযোগ করেন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জুলাই বিষয়ক একটি ডকুমেন্টারি তৈরির জন্য তৎকালীন তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজুর রহমানের মৌখিক নির্দেশে চলচ্চিত্র প্রকাশনা অধিদপ্তর (ডিএফপি) জনৈক মুশফিকুর রহমান জোহানকে কাজ দেয়। যদিও এর কার্যাদেশ ভুক্তভোগীর বড় ভাই ডিএফপিতে কর্মরত ক্যামেরাম্যান মশিউর রহমানের নামে। সেই সুবাদে এর যাবতীয় দায়ভার তার ওপর বর্তায়।

দুঃখজনক হলেও সত্য, উক্ত মুশফিকুর রহমান জোহান নিজেকে কখনো সমন্বয়ক, সহ-সমন্বয়ক, উপদেষ্টার ঘনিষ্ঠ বলে জাহির করে ডকুমেন্টারিটি দায়সারাভাবে নির্মাণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। যার সঙ্গে কার্যাদেশের কোনো মিল নেই। বিষয়টি কর্তৃপক্ষেরও নজরে আসে। ইতোমধ্যে তিনি বিলের অধিকাংশ টাকা নিয়ে গেছেন। কিন্তু এ-সম্পর্কিত ভিডিও ডকুমেন্ট বিলের সঙ্গে যথাযথভাবে সরবরাহ করেননি, যা সংরক্ষণ করা কার্যাদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য বাধ্যতামূলক। এ নিয়ে মহাপরিচালকের নেতৃত্বে কয়েক দফা মিটিং হয়। ৩০ মার্চ এ বিষয়ে তার সঙ্গে মহাপরিচালকের মিটিং ছিল। কিন্তু সরকারি কাজে ডিজি ব্যস্ত থাকায় মিটিং আয়োজনের ক্ষেত্রে কিছুটা বিলম্ব হয়, যা মেনে নিতে জুলাই বিষয়ক উক্ত ডকুমেন্টারি নির্মাতা মুশফিকুর রহমান জোহান অস্বীকৃতি জানান। সন্ধ্যা ছয়টার পর মহাপরিচালকের উপস্থিতিতে মিটিং শুরু হলে শুরুতেই উত্তেজিত ভূমিকায় অবতীর্ণ হন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ডিজির রুমে আটকে রেখে মব সৃষ্টি করে ভুক্তভোগীর বড় ভাই ডিএফপিতে কর্মরত ক্যামেরাম্যান মশিউর রহমানকে মারধর ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। মব সৃষ্টিকারীরা নিজেদেরকে এনসিপির সমর্থক বলে দাবি করেন। ডিজির রুমে একজন সরকারি কর্মকর্তাকে মারধরের বিষয়টি লজ্জাজনকও বটে।

বিষয়টি জানতে পেরে ভুক্তভোগী আতিকুর রহমান তৎক্ষণাৎ পুলিশকে অবহিত করেন। সেই সঙ্গে ডিএফপির ডিজির সঙ্গেও কথা বলেন। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তিনি তার বড় ভাইকে উদ্ধার করে একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। এ ব্যাপারে রমনা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

দুঃখজনক হলেও সত্য, উক্ত জুলাই বিষয়ক ডকুমেন্টারি বিল আদায়ের নামে মব সৃষ্টিকারী অভিযুক্ত জোহান সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ট্যাটাসের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজ ছাত্রদলকে দায়ী করেন, যার কোনো সত্যতা নেই। কয়েকটি পত্রিকাতেও এই বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, যা দুঃখজনক।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের ছাত্রদলকে নিয়ে একটি মহল দীর্ঘদিন যাবৎ বিতর্কিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। গত সংসদ নির্বাচনে যা আপনারা প্রত্যক্ষ করেছেন। গতকালের ঘটনায় হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজ ছাত্রদলকে জড়ানোর বিষয়টি তারই ধারাবাহিকতা মাত্র। তিনি এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং বিল আদায়ের নামে সরকারি প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মচারীর ওপর মব সৃষ্টি করে হামলা ও আহতের বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন