

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান সামরিক হামলার মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে স্থল অভিযান শুরু করে, তবে দেশটির পক্ষে যুদ্ধ করার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে রাশিয়ার চেচেন সামরিক ইউনিট।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ইরানের বিভিন্ন গণমাধ্যম এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলছে। এই সময়ের মধ্যে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও অবকাঠামোগত স্থাপনায় একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং এতে হতাহতের খবরও পাওয়া গেছে।
তবে দীর্ঘদিনের এই হামলার পরও ইরানকে পুরোপুরি দুর্বল করতে না পারায় যুক্তরাষ্ট্র স্থল অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার চেচেন প্রজাতন্ত্রের নেতা রমজান কাদিরভের প্রতি অনুগত চেচেন সামরিক ইউনিটগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে স্থল আগ্রাসন চালালে তারা ইরানি বাহিনীকে সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চেচেন বাহিনীর এমন ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করার আশঙ্কা তৈরি করেছে এবং এতে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর সরাসরি জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাদিরভপন্থী বাহিনীগুলো ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইলের চলমান সামরিক অভিযানকে একটি ‘ধর্মীয় যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তারা সম্ভাব্য যেকোনো হস্তক্ষেপকে ‘জিহাদ’ — অর্থাৎ ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতিরক্ষায় ভালো ও মন্দের লড়াই হিসেবে বর্ণনা করেছে।
চলমান উত্তেজনা এবং জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই এই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে যে, কয়েক সপ্তাহের বিমান হামলায় কোনো চূড়ান্ত ফলাফল না আসায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত একটি স্থল হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাত দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানি পক্ষগুলোর দাবি অনুযায়ী, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনার সময় এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। এর মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীসহ উচ্চপদস্থ সামরিক কমান্ডার এবং বেসামরিক নাগরিকদের হাই-প্রোফাইল হত্যাকাণ্ডের বিষয়গুলোও জড়িয়ে আছে।
তেহরান এর জবাবে নিরবচ্ছিন্ন সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে।
খবর পাওয়া গেছে যে, তারা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইসরাইলি সামরিক অবকাঠামো এবং মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ডজন ডজন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, তাদের সশস্ত্র বাহিনী অন্তত ৮৬ দফা প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই পক্ষের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র সংঘাতের একটি পর্যায় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলে ইরান অভিযোগ করেছে যে, ইউক্রেন সরাসরি মার্কিন ও ইসরাইলি অভিযানে সহায়তা করছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং নিরাপত্তা পরিষদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ইরানের দূত আমির সাইদ ইরাভানি দাবি করেছেন যে, কিয়েভ এই অভিযানে সহায়তার জন্য ‘শত শত বিশেষজ্ঞ’ মোতায়েন করেছে।
ইউক্রেনীয় কর্মীদের এই কথিত সংশ্লিষ্টতাকে বিশ্লেষকরা একটি উল্লেখযোগ্য উসকানি হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এটি চলমান ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়া ও পশ্চিমের মধ্যকার বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের সঙ্গে এই সংঘাতকে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করছে।
চেচেন সৈন্য সমাবেশ বা ইউক্রেনীয় সেনা মোতায়েনের কোনো নিরপেক্ষ নিশ্চিতকরণ পাওয়া না গেলেও, এই দাবিগুলো সংঘাতটি আরও বড় আকার ধারণ করার এবং একাধিক রাষ্ট্র ও অ-রাষ্ট্রীয় পক্ষকে জড়িয়ে একটি বহুমুখী যুদ্ধের আশঙ্কাকাকেই জোরালো করছে।
চেচেন আর্মির প্রধান রমজান কাদিরভ নেতৃত্বাধীন কিছু সামরিক ইউনিট রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন। এই ইউনিটগুলোকে নির্দিষ্টভাবে ‘কাদিরোভৎসি’ বলা হয়। তারা কখনো কখনো রাশিয়ান সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে এবং কখনো কখনো চেচনিয়ার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত থাকে।
সূত্র: দ্য ইয়ন
মন্তব্য করুন
