বৃহস্পতিবার
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাসিনার আইন ফিরিয়ে এনে হাসিনাকেই ফেরানোর পথ তৈরি করা হচ্ছে: ফুয়াদ

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand

সরকার একের পর এক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে বলে অভিযোগ করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার এবং সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন আইন পুনর্বিবেচনার দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে দলটির নেতারা এসব অভিযোগ করেন।

বুধবার (০৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় রাজধানীর বিজয়নগরের বিজয়-৭১ চত্বরে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এবি যুব পার্টির সদস্য সচিব হাদীউজ্জামান খোকনের সঞ্চালনায় এতে সভাপতিত্ব করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। বক্তব্য দেন দলের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, আমিনুল ইসলাম এফসিএ, আলতাফ হোসেন ও শাহাদাতুল্লাহ টুটুল।

সমাবেশে ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ‘২০০৯ সালের মানবাধিকার কমিশন আইনকে আবার ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আওয়ামী লীগের আইন যদি ফিরিয়ে আনতেই হয়, তাহলে আওয়ামী লীগকেও ফিরিয়ে নিয়ে আসুন! এই সংসদ অক্ষরে অক্ষরে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার সব কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘তারা ৩১ দফার সঙ্গে বেঈমানি করেছে এবং লাখ লাখ জাতীয়তাবাদী শক্তির সঙ্গে প্রতারণা করেছে।’ এ সময় তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘ভুলে যাবেন না, আবারও মুচলেকা দিতে হতে পারে।’

ফুয়াদ বলেন, নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের ভোটে সংসদে যাওয়া অনেকেই অতীতের ইতিহাস ভুলে গেছেন। জিয়া পরিবারের ওপর নির্যাতন, বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা এবং হাজার হাজার মানুষকে গুম, গুলি ও ক্রসফায়ারের শিকার করার ঘটনাগুলোর কথাও তারা ভুলে গেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আজ সেই ইতিহাস দেখতে হচ্ছে সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীকে, দেখতে হচ্ছে ইলিয়াস আলীর স্ত্রীকে। অথচ সংসদে দাঁড়িয়ে আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতির সঙ্গে ছলচাতুরি শুরু করেছেন।’

জুলাই সনদ ও গণভোটের প্রসঙ্গ তুলে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় মানুষের হৃদয়ে এবং দেওয়ালে দেওয়ালে লেখা হয়ে গেছে। কয়েকটি কলমের খোঁচায় সেই রায় বাতিল করা যাবে না।’

সমাবেশে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণের মধ্যে যে প্রত্যাশা তৈরি করেছিল, নতুন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে তা পূরণ হয়নি। বরং আগের অধ্যাদেশ বাতিল করে আরও শক্তিশালী আইন করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত দুর্বল আইন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

গুমের তদন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে রাখা হলে তা প্রহসনে পরিণত হবে বলে মন্তব্য করেন মঞ্জু। তিনি বলেন, যাদের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ রয়েছে, তাদেরই যদি অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব নয়। গুমের তদন্ত এমন একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের হাতে দিতে হবে, যার কর্মকর্তারা বদলি, পদোন্নতি বা চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে কোনো চাপের মধ্যে থাকবেন না।

অতীতে গুমের অসংখ্য অভিযোগ উঠলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসব ঘটনায় দায় স্বীকার করেনি উল্লেখ করে তিনি গুমের তদন্তে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান গঠনের দাবি জানান।

সরকারের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে মঞ্জু বলেন, দেড় বছরে এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরির কথা বলা হলেও এখন তা ভুলে যাওয়া হয়েছে। জ্বালানির দাম বাড়ানো হবে না বলা হলেও কয়েক দফায় দাম বাড়ানো হয়েছে। মানুষের আয় না বাড়লেও সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা চাপানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ইরানের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকট তৈরির বিষয়টি বোঝা গেলেও চাঁদাবাজি বেড়ে যাওয়ার জন্য সেই যুদ্ধকে দায়ী করা যায় কি না এমন প্রশ্ন তুলে মঞ্জু বলেন, ‘আপনারা সেই অতীতের পথেই হাঁটছেন।’

সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিল প্রসঙ্গে মঞ্জু বলেন, নতুন আইনে ভবিষ্যতে নানা ধরনের জটিলতা ও বিরোধ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে দান করা সম্পত্তি পরবর্তীতে বিক্রি বা হস্তান্তর করা যাবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি বলেন, বাবা-মা বা কোনো দাতার জীবদ্দশায় সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তরের পরও তাঁদের ব্যবহার ও ভোগের অধিকার সংরক্ষণের সুযোগ তৈরির উদ্দেশ্য মানবিক। তবে আইনের কোনো বিধান মুসলিম আইন বা শরিয়াহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে। এ বিষয়ে ওলামায়ে কেরামের মতামতকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

মঞ্জু বলেন, ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন এবং সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন আইন এই তিনটি আইন পুনর্বিবেচনা ও প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে।’

সমাবেশে এবি পার্টির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, ছাত্রপক্ষের সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্স, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির আহ্বায়ক কেফায়েত হোসাইন তানভীর, ছাত্রপক্ষের সাধারণ সম্পাদক রাফিউর রহমান ফাত্তাহ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক রাজিয়া সুলতানা, কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক সফিউল বাশার, মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব বারকাজ নাসির আহমদসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank