

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন মারধরের শিকার হয়ে ভোট দিতে পারেননি— এমন অভিযোগে মিথ্যা মামলা দায়ের করায় রাজশাহীর এক বিএনপি নেতাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত।
রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এর বিচারক মো. সাদ্দাম হোসেন এ রায় দেন।
মামলায় কারাভোগ করা দুই আসামি জরিমানার অর্থ পাবেন। ৭ দিনের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে বাদীকে একমাস কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম সাজ্জাদ হোসেন (৪৬)। তিনি হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি। বেলুয়া খোলাবোনা গ্রামে তার বাড়ি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন তিনি কারাগারে ছিলেন। অথচ সেদিন ভোট দিতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন দাবি করে মিথ্যা মামলা করেন।
গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ২৩ আগস্ট রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের দামকুড়া থানায় মামলাটি করেন সাজ্জাদ হোসেন। মামলায় হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান বজলে রেজভী আল হাসান মুঞ্জিল, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাইদুর রহমান বাদলসহ দলটির ১৩ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছিল।
এজাহারে তিনি লেখেন, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে ভোট দেওয়ার জন্য তিনি কসবা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে যান। এ সময় আসামিরা তাকে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে বাধা দেন। এরপরও তিনি ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের চেষ্টা করলে বজলে রেজভী আল হাসান মুঞ্জিল পিস্তল দেখিয়ে তাকে গুলি করার হুমকি দেন এবং অন্য আসামিরা তাকে হত্যার উদ্দেশে ধাওয়া করেন।
একপর্যায়ে রজব নামের এক ব্যক্তির বাড়ির সামনে পৌঁছালে আসামি বাবর আলী, মো. জাহাঙ্গীর, মো. সোহাগ ও মো. রাজিব তাদের হাতে থাকা পিস্তল দিয়ে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়েন। তখন গুলি তার পাশ দিয়ে চলে যায়। আসামি বাদলসহ অন্যরা তাদের হাতে থাকা বাঁশের লাঠি, হাঁসুয়া ও পাসলি দিয়ে তাকে মারধর করে আমার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় রক্তাক্ত জখম করেন।
পরে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে তাকে রক্ষা করেন। এ সময় আসামিরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। অথচ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর বিএনপি নেতা সাজ্জাদ রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন। তাই তার দায়ের করা মামলার ঘটনার বিবরণ সন্দেহাতীতভাবে মিথ্যা প্রমাণিত হয়।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের আদালত পরিদর্শক আব্দুর রফিক জানান, মামলার ঘটনার তারিখে সাজ্জাদ হোসেন কারাগারে ছিলেন। অথচ ওই তারিখে তাকে ভোটকেন্দ্রে মারধরের অভিযোগে মিথ্যা মামলা করেন। মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন।
তিনি জানান, এই মিথ্যা মামলায় দুজন আসামি গ্রেফতার হয়ে জেল খেটেছেন। তারা জরিমানার ৫০ হাজার টাকা করে পাবেন। সাতদিনের মধ্যে জরিমানা পরিশোধ করে ব্যাংক চালানের কপি আদালতে জমা দিতে হবে। তা না হলে বাদীকেই একমাস কারাভোগ করতে হবে।
মামলার বাদী বিএনপি নেতা সাজ্জাদ আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আদালত উল্টো আমাকেই এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। ৭ দিনের মধ্যে জরিমানার টাকা দিতে হবে। তা না হলে একমাস জেল খাটতে হবে। এখন কী করি!
মামলাটি মিথ্যা কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি তো আসলে রাজনৈতিক মামলায় জেলে ছিলাম। মামলা করার সময় বিষয়টা মনে ছিল না। আদালতে যখন প্রমাণিত হয়েছে তখন মামলা মিথ্যাই ছিল।
মন্তব্য করুন
