

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


অসহায়, দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা শতভাগ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
তিনি বলেন, নারীদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিগুলোর একটি। এ কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহে দল-মতের কোনো বিষয় বিবেচনায় নেওয়া যাবে না। প্রশিক্ষণ শেষে মাঠপর্যায়ে সততা, আন্তরিকতা ও নির্ভুলতার সঙ্গে তথ্য সংগ্রহ করে উপকারভোগীদের ডাটাবেজ তৈরি করতে হবে।
বুধবার (০৯ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁওয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমে নিয়োজিত তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণের জন্য দুই দিনব্যাপী ‘প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ’ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক।’ প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারের এই কর্মসূচি মাঠপর্যায়ে সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চার বছর চলবে জানিয়ে তিনি বলেন, সারাদেশে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই ধারাবাহিকভাবে চলবে। দুই মাস পরপর তথ্য পর্যালোচনা করা হবে।
প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ চলাকালে নিজেদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে হবে। প্রশিক্ষণকে ফলপ্রসূ ও অর্থবহ করতে হবে, যাতে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের সময় কোনো বিষয়ে প্রশ্ন উঠলে যথাযথভাবে তার সমাধান ও উত্তর দেওয়া সম্ভব হয়।
অনুষ্ঠানে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ।
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর অল্প সময়ের মধ্যেই দেশের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়ে বাস্তবায়ন শুরু করেছে। নারীর ক্ষমতায়নে ফ্যামিলি কার্ড সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প।
তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ডের পাইলটিংয়ের কাজ প্রাথমিকভাবে শেষ হয়েছে। আগামী অক্টোবর থেকে সারাদেশে প্রায় ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে প্রকৃত উপকারভোগীদের তথ্য যাচাই-বাছাই ও ডাটাবেজ তৈরির জন্য তথ্য সংগ্রহকারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রশিক্ষণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আন্তরিকতা। প্রশিক্ষণে তৈরি হওয়া দক্ষ ও আন্তরিক প্রশিক্ষকরা পরবর্তী সময়ে আরও কর্মীকে প্রশিক্ষিত করবেন। এর মাধ্যমে নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ এবং কার্যকর ডাটাবেজ তৈরি সম্ভব হবে।
ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার একটি সমন্বিত ব্যবস্থার কথা ভাবছে, যেখানে একটি কার্ডের মাধ্যমে মানুষের বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। সঠিকভাবে ডাটাবেজ তৈরি করা গেলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তথ্যের পুনরাবৃত্তি ও অনিয়ম কমানোর পাশাপাশি অপরাধ নিয়ন্ত্রণেও তা কাজে লাগানো সম্ভব হবে।
ডেটার গুরুত্ব তুলে ধরে ফারজানা শারমীন বলেন, একসময় বলা হতো ‘টাইম ইজ মানি’। এখন ‘ডেটা ইজ মানি’। বাংলাদেশের সব মানুষকে একটি নির্ভরযোগ্য ডাটাবেজের আওতায় আনা গেলে এই তথ্য ব্যবহার করে সরকারি বিভিন্ন কার্যক্রম আরও সহজ ও কার্যকর করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে আগে পর্যাপ্ত ধারণা ছিল না। সঠিকভাবে ডাটাবেজ তৈরি হলে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে এবং মানুষের কাছে এর ভূমিকা আরও স্পষ্ট হবে।

